‘সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে একরামকে হত্যার ছক কষেন বদি’


টেকনাফের পৌর কাউন্সিলর একরামুল হককে কথিত বন্দুকযুদ্ধে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এই মন্তব্য করেছেন।

রোববার সকালে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ এই হত্যা মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়।

এদিন ট্রাইব্যুনাল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের ও আবদুর রহমান বদিসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছে।

একই সঙ্গে আটজন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং অন্য মামলায় গ্রেপ্তার থাকা তিনজনকে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানান, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য অনুযায়ী রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ একরামুল হককে হত্যার ছক কষেছিলেন বদি।

মূলত একরামের সম্পত্তি আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এই মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন—সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ।

এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর রুহুল আমিন, সাবেক ডিজিএফআই কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব এবং লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, আসামি রুহুল আমিন ও আশেকুর রহমান সরাসরি একরামুল হককে গুলি করেন।

আর মিফতাহ উদ্দিনসহ অন্যান্য র‍্যাব কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো হত্যাকাণ্ডের তত্ত্বাবধান করেন।

ঘটনার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একরামের স্ত্রীকে ডেকে নিয়ে ক্ষতিপূরণের প্রলোভন দেখিয়েছিলেন বলেও প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেন।

আগামী ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখ এই মামলার পরবর্তী কার্যক্রমের জন্য দিন ধার্য করেছে ট্রাইব্যুনাল।

২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে টেকনাফের মেরিন ড্রাইভে র‌্যাবের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর একরামুল হক।

সে সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তালিকায় তাঁকে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে আখ্যায়িত করে র‍্যাব দাবি করেছিল, তাঁর বিরুদ্ধে টেকনাফ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

একরামুলের ভাই এহসানুল হক বাহাদুর তখন জানিয়েছিলেন, সাধারণ পোশাকে ডিজিএফআইয়ের পরিচয় দিয়ে কয়েকজন লোক জমি বিক্রির কথা বলে তাঁর ভাইকে ডেকে নিয়ে যায়।

পরে মোবাইল ফোন চালু থাকায় তাঁর স্ত্রী ও মেয়েরা ফায়ারিংয়ের শব্দ শুনতে পান, যা ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

এই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জের ধরে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।