
চট্টগ্রামের পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের এখতিয়ার লঙ্ঘন করে অনৈতিকভাবে কর্ণফুলীতে জমির দলিল নিবন্ধনের কারণে সরকার বিপুল রাজস্ব হারাচ্ছে। একইসঙ্গে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। এ বিষয়ে দায়ের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির হায়াত চৌধুরী ও বিচারপতি জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।
পটিয়া দলিল লেখক সমিতির পক্ষে রিটটি দায়ের করা হয়। রিট দায়েরের আগে সমিতির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে একটি আইনি নোটিশও পাঠানো হয়েছিল।
আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দিন চৌধুরী। আদালত রিটটি আমলে নিয়ে রুল জারি করেছেন বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
সমিতির সূত্রে জানা যায়, পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের আওতাধীন জমির দলিল দীর্ঘদিন ধরে কর্ণফুলী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধন করা হচ্ছিল। পটিয়ার উচ্চ মূল্যের জমির দলিল কর্ণফুলী অফিসের আওতায় দেখিয়ে কম মূল্যে বা কম রাজস্ব পরিশোধ করে রেজিস্ট্রি করার চেষ্টা করা হয়। এর ফলে পটিয়া অফিস তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব হারাচ্ছে। এসব অনিয়ম বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের আইনি অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করা হয়।
পটিয়া দলিল লেখক সমিতির সভাপতি শামসুদ্দোহা ও সাধারণ সম্পাদক প্রণব দাশ জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের আইনি অধিকার নিশ্চিত করা, সরকারি রাজস্ব রক্ষা এবং সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ফেরানোই তাদের লক্ষ্য। এ রুল জারির বিষয়টিকে তারা প্রাথমিক বিজয় হিসেবে দেখছেন।
তবে এ বিষয়ে পটিয়া সাব-রেজিস্ট্রার মেজবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, হাইকোর্টে রুল জারির বিষয়টি তার জানা নেই।
অন্যদিকে, নিবন্ধন অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক বৈঠকে চট্টগ্রামে হেবা দলিল নিবন্ধন সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে প্রশাসনিক অগ্রগতি হয়েছে।
মঙ্গলবার নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক বা আইজিআর শামীমা আফরোজ, অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক আসরাফুজ্জামান এবং চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিদর্শক বা আইআরও মাহফুজার রহমান খানের সঙ্গে পটিয়া দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে হেবা দলিল নিবন্ধনের জটিলতা নিরসনে কক্সবাজারের জেলা রেজিস্ট্রারকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন আইআরও মাহফুজার রহমান খান। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। এর ফলে হেবা দলিল সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
