
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা এবং আহতদের বাদ দিয়ে আলোচনা সভা আয়োজনের অভিযোগে অনুষ্ঠান বর্জন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন।
সভার শুরুতেই জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা ও আহতদের অনুপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরে সভাস্থল ত্যাগ করেন এনসিপির সাতকানিয়া উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী মো. তহীদুল ইসলাম মাছুম।
এনসিপির সাতকানিয়া উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী মো. তহীদুল ইসলাম মাছুম অভিযোগ করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল শক্তি ছাত্র-জনতা এবং আহতদের বা তাদের পরিবারের সদস্যদের ছাড়াই এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সদস্যদের বাদ দিয়ে প্রশাসন নিজেদের মধ্যে আয়োজনটি সীমাবদ্ধ রাখতে চেয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।
এ ধরনের আয়োজন গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে না উল্লেখ করে তিনি সভা বর্জনের ঘোষণা দেন।
এই সভায় সভাপতিত্ব করেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বা ইউএনও খোন্দকার মাহমুদুল হাসান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শামসুজ্জামান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অমিত দে এবং উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে।
এছাড়া উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামাল উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহিম এবং পৌরসভা জামায়াতের নায়েবে আমির শাহ আলম সভায় অংশ নেন।
পাশাপাশি সাতকানিয়া যুবদলের সদস্যসচিব নাজিম উদ্দিন এবং সাঙ্গু সাংগঠনিক থানা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইলিয়াসসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এনসিপির অভিযোগের বিষয়ে সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসের মূল অনুষ্ঠান চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী আন্দোলনে আহত ব্যক্তি ও নিহতদের পরিবারের সদস্যদের চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার বিকেলে সাতকানিয়ায় দিবসটি পালনের নির্দেশনা আসায় অল্প সময়ের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করতে হয়েছে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা সেখানে অংশ নেওয়ায় সভা বর্জনের কোনো কারণ ছিল না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রশাসনের এই ব্যাখ্যার পরও প্রশ্ন উঠেছে যে, উপজেলা পর্যায়ের আলোচনা সভায় স্থানীয় অংশগ্রহণকারী ও আহতদের অন্তর্ভুক্ত করতে আলাদা কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল কি না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
