
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে একটি সমঝোতা কাঠামো চূড়ান্ত করেছে ইরান।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র হাসান ঘাশঘাভি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে এই সমঝোতার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ওমানের সঙ্গে সমঝোতার সাধারণ কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত খসড়া ও বিস্তারিত তথ্য শিগগিরই জানানো হবে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুমোদনের ওপর নির্ভর করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথগুলোর একটি হলো এই হরমুজ প্রণালি।
বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ইরানবিরোধী যুদ্ধ আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বারবার ব্যাহত হচ্ছে।
বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কারণে পরিবহন খরচ ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বেড়েছে।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবিত চুক্তি বাস্তবায়ন সহজ হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এবং অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে কঠোর বিমা শর্তের কারণে এই জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে তারা উল্লেখ করেছে।
এদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র ৩৩টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা আগের সপ্তাহের একই সময়ে ছিল ৫০টি।
হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরান ও ওমানের আলোচনার অগ্রগতির দিকে বাজারসংশ্লিষ্টরা নজর রাখায় জাহাজ চলাচল কমে গেছে।
এর আগের দিন মাত্র চারটি জাহাজ প্রণালিটি পার হয়েছে।
এর মধ্যে ইরাকের বসরাহ থেকে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনকারী বিশাল আকৃতির তেলবাহী জাহাজ নিসোস কেয়া ছিল।
অন্য তিনটি জাহাজের মধ্যে দুটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি বহন করছিল এবং একটি ছোট আকারের বাল্ক কার্গো জাহাজ ছিল।
কোপ্লারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়টি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি থেকে বের হয়েছে।
অন্যদিকে, মোট ২১টি জাহাজ প্রণালিতে প্রবেশ করেছে, যাদের বেশিরভাগই ইরানের নির্ধারিত রুট ব্যবহার করেছে।
