
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের প্রতিবেশ-পরিবেশ সুরক্ষা এবং অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সরকারের একটি মহাপরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
শনিবার বিকেলে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ২০ হাজার চারা গাছ রোপণ ও সমুদ্রসৈকত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে দেশের সার্বভৌমত্ব এবং দ্বীপের অস্তিত্ব সমন্বয় করে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।
সেন্টমার্টিন রক্ষায় সবচেয়ে জরুরি পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্বীপের গুরুত্বপূর্ণ অংশ উল্লেখ করে শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা দ্বীপকে লালন করছেন।
তাই তাদের বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মহেশখালীতে প্যারাবন কাটার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান বিএনপি সরকার কোনো রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না এবং তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছেন বলে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
এর অংশ হিসেবে সেন্টমার্টিনে আপাতত ২০ হাজার গাছ লাগানো হচ্ছে।
উপকূলের যেখানে যে গাছ উপযোগী, সেখানে সেই গাছই লাগানো হবে বলে তিনি জানান।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, এনরুট ফাউন্ডেশন ও বিজিএস-এর যৌথ উদ্যোগে ৮ থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এই কর্মসূচির আওতায় আম, পেয়ারা, বহেরা, হরিতকী, নিম, কুল, কৃষ্ণচূড়া, জারুল, সাগরলতা, কেয়া ও নারিকেলসহ বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করা হচ্ছে।
পাশাপাশি সৈকত থেকে প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ গত তিন বছরে সারা দেশে ৩২ লাখ বৃক্ষ রোপণ করেছে এবং আগামী পাঁচ বছরে আরও ৭৫ লাখ বৃক্ষ রোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে এনরুট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. তারিকুল হক, হেড অব প্রোগ্রাম জুবায়ের ইবনে হাসনাত অভি এবং ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কক্সবাজার এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেশন অফিসের সিনিয়র ম্যানেজার রোনাল্ড প্রবীর চিসিক উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া ওয়ার্ল্ড ভিশনের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ রুহুল আমিন, উপজেলা কোঅর্ডিনেটর ছোটন বড়ুয়াসহ সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যবৃন্দ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক, যুবসমাজ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
