
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে আসছেন তারেক রহমান।
রোববার সকাল সোয়া ৯টায় ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজারের মহেশখালীর উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
এই সফরে তিনি মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন শেষে চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলা পরিদর্শন করবেন।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে ঘর হস্তান্তর এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে চট্টগ্রামের প্রধান সড়ক ও ফ্লাইওভারগুলোতে নতুন রঙ করে শোভাবর্ধন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সড়কে তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়েছে।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন প্যান্ডেলে সুধী সমাবেশে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
সেখানে বাঁশখালী পৌরসভা ও নয়টি ইউনিয়নের বন্যায় বিধ্বস্ত ১০০টি পরিবারের হাতে নতুন দুর্যোগসহনশীল ঘরের চাবি তুলে দেবেন তিনি।
মাটির ঘর ধসে পড়ে নিঃস্ব হওয়া জেলে সম্প্রদায় ও অসচ্ছল পরিবারগুলোকে এই তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বাহারছড়ার জেলেপাড়ার সন্তানহারা ও বন্যায় ঘর হারানো স্বামীহারা এক নারীর হাতে প্রথম প্রতীকী চাবিটি তুলে দেওয়া হবে।
আরসিসি পিলার ও আধুনিক টিনে তৈরি প্রতিটি ঘরের দৈর্ঘ্য ১৮ ফুট ও প্রস্থ ১২ ফুট এবং সঙ্গে একটি সংযুক্ত শৌচাগার রয়েছে।
বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষে তিনি হেলিকপ্টারে ফটিকছড়ি পৌঁছাবেন।
সেখানে বাবুনগর মাদ্রাসায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এবং শীর্ষ ৭০ জন আলেমের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করবেন।
এরপর সড়কপথে হাটহাজারী গিয়ে মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করার কথা রয়েছে তাঁর।
হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত আরও ৩০টি পরিবারের হাতে সহায়তা তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় নগরীর ‘রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ’ হোটেল মিলনায়তনে বিএনপির একটি সাংগঠনিক সভায় তিনি যোগ দেবেন।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে জানিয়েছেন যে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের কথা শোনার যে সুযোগ করে দিয়েছেন, তাতে সবাই অত্যন্ত খুশি।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত শওকত আজম খাজা জানান, নগর কমিটির ৫৩ সদস্য, ৪১ ওয়ার্ড কমিটির আহ্বায়ক, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলের নেতারা সভায় থাকবেন।
দীর্ঘদিনের ত্যাগী কর্মীরাও এই সভায় অংশ নেবেন এবং মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা থেকে প্রায় ৬০০ নেতাকর্মী উপস্থিত থাকবেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান জানিয়েছেন, কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী নিজেই ঠিক করবেন কারা বক্তব্য দেবেন।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এই অঞ্চলের মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
তিনি আরও বলেন, জিয়া পরিবারের প্রতি এখানকার মানুষের ভালোবাসা অপরিসীম বলেই পুরো চট্টগ্রামে সাজ সাজ রব বিরাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে বাঁশখালী, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারীসহ মোট সাতটি ভেন্যু প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী বা এসএসএফ একযোগে কাজ করছে।
বাবুনগর মাদ্রাসা এলাকায় ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশিসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
দিনভর ব্যস্ত সফর শেষে রাতেই প্রধানমন্ত্রীর ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ত্যাগ করার কথা রয়েছে।
