‘কতদিন দেখিনি দুচোখ…’, পোস্ট দিলেন, ধরা পড়লেন!


ফেসবুক পোস্ট দিয়েছিলেন ভালোবাসার কথা জানাতে। কিন্তু সেই ভালোবাসার পোস্টই হয়ে উঠল গ্রেপ্তারের পথ।

আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য এবং আনোয়ারার পরিচিত মুখ বোরহান উদ্দীন চৌধুরী মুরাদ দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। মামলার ভয়ে চট্টগ্রাম ছেড়ে ঢাকায় ছদ্মবেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। কিন্তু বিচ্ছেদের কষ্ট সামলাতে না পেরে গতকাল শনিবার রাতে ফেসবুকে স্ত্রীর সঙ্গে ছবি আপলোড করলেন। ক্যাপশনে লিখলেন বিখ্যাত গানের কলি- “কতদিন দেখিনি দুচোখ নির্ঘুম চোখ…”

পোস্টটি দিলেন স্ত্রীকে ভালোবাসা জানাতে। কিন্তু পুলিশও দেখল সেই পোস্ট। ট্র্যাকিং শুরু হলো। মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে গুলশানে অভিযান। সাবেক ভূমিমন্ত্রীর লকআউট বাসা থেকে গ্রেপ্তার।

নেটিজেনরা বলছেন, স্ত্রীর প্রতি ভালোবাসা দেখাতে গিয়ে নিজের ঠিকানাই জানিয়ে দিলেন এই নেতা।

আত্মগোপনে ছিলেন, কিন্তু ফেসবুক ভুলতে পারেননি

৫ আগস্টের পর থেকে মুরাদের বিরুদ্ধে আনোয়ারায় একের পর এক মামলা হয়েছে- ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক সহিংসতার অভিযোগ। সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ঘনিষ্ঠ এই সহযোগী মামলার পর চট্টগ্রাম ছেড়ে ঢাকায় আশ্রয় নেন। বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁর খোঁজে ছিল পুলিশ।

কিন্তু দীর্ঘ আত্মগোপনে থেকে হয়তো মন ভারী হয়ে উঠেছিল। স্ত্রীকে মিস করছিলেন। তাই সাবধানতার সব হিসাব ভুলে গতকাল শনিবার রাতে ফেসবুকে ছবি দিলেন, আবেগ ঢাললেন গানের কলিতে। আর সেটাই হলো কাল।

পুলিশ সূত্র জানায়, ফেসবুক পোস্ট নজরে আসতেই প্রযুক্তির সাহায্যে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করা হয়। গুলশানের বিলাসবহুল এলাকায় সাবেক ভূমিমন্ত্রীর লকআউট বাসায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয় মুরাদকে।

আনোয়ারায় তোলপাড়, আদালতে যাচ্ছেন আগামীকাল

গ্রেপ্তারের খবর আনোয়ারায় পৌঁছাতেই শুরু হয়েছে রসালো আলোচনা। আনোয়ারার পরিচিত এই নেতার “ফেসবুক পোস্টে ধরা পড়া” নিয়ে মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে এক অদ্ভুত মিশ্র অনুভূতি- কেউ হাসছেন, কেউ বলছেন এটাই নিয়তি।

গুলশান থানার ওসির মো. দাউদ হোসেন জানিয়েছেন, গুলশান থানা থেকে আনোয়ারা থানায় স্থানান্তরের আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এরপর তাকে মামলাগুলোতে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

রাজনীতির মাঠে যিনি অনেক কিছু সামলেছেন, তাঁকে শেষ পর্যন্ত ফাঁসাল একটি ফেসবুক পোস্ট। ভালোবাসা প্রকাশ করতে গিয়ে যে ভুল করলেন- সেই ভুলের মাশুল দিতে এখন যেতে হচ্ছে আদালতে।