
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডের ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
গত বছরের তুলনায় শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবার ১৭৮টি বেড়েছে।
একইসঙ্গে এবার পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে এবার গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং মোট জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন পরীক্ষার্থী।
সোমবার সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এ সময় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করেন।
শূন্য পাস করা ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ৫৭টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ২২৬টি এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ২৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
২০২৫ সালে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান ছিল ১৩৪টি।
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এ বছর গড় পাসের হার ৬৪ দশমিক ০৫ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে ৬৮ দশমিক ০৪ শতাংশ ছিল।
অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সাধারণ বোর্ডগুলোতে পাসের হার ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমেছে।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে এবার জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ৯ জন পরীক্ষার্থী, যা গত বছর ১ লাখ ২৫ হাজার ১৮ জন ছিল।
এ বছর সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে উত্তীর্ণ মোট ছাত্রের চেয়ে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৮২ জন বেশি ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছে।
জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও ছাত্রের চেয়ে ১১ হাজার ৪০১ জন ছাত্রী এগিয়ে রয়েছে।
এবার মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেড়েছে ৩০৩টি এবং মোট কেন্দ্র বেড়েছে ২০১টি।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৯৫১ জন পরীক্ষার্থী।
অন্যদিকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ হাজার ৭১৬ জন।
এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল।
এর মধ্যে ৯ লাখ ৩০ হাজার ৩০৫ জন ছাত্র এবং ৯ লাখ ২৭ হাজার ৩৯ জন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২১ এপ্রিল।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা ২০ মে এবং মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের লিখিত অংশ ২৪ মে শেষ হয়।
সাধারণত লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ করা হলেও এবার নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর ফল প্রকাশ করা হলো।
শিক্ষার্থীরা নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অনলাইনের মাধ্যমে একযোগে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারছে।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের পাশাপাশি এসএমএসের মাধ্যমেও ফল জানার সুযোগ রয়েছে।
১৬২২২ নম্বরের পাশাপাশি এবার নতুন ১৬১৪০ নম্বরে এসএমএস পাঠিয়েও ফলাফল সংগ্রহ করা যাচ্ছে।
সাধারণ বোর্ডের জন্য মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে ইংরেজিতে এসএসসি লিখে স্পেস দিয়ে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর লিখে স্পেস দিয়ে রোল নম্বর দিতে হবে।
এরপর স্পেস দিয়ে পাসের বছর লিখে ১৬১৪০ বা ১৬২২২ নম্বরে পাঠাতে হবে।
মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের দাখিল লিখে স্পেস দিয়ে ম্যাড লিখে স্পেস দিয়ে রোল স্পেস দিয়ে বছর লিখে পাঠাতে হবে।
কারিগরি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এসএসসি লিখে স্পেস দিয়ে টেক লিখে স্পেস দিয়ে রোল স্পেস দিয়ে বছর লিখে পাঠাতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক রেজাল্ট শিট পেতে বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে রেজাল্ট কর্নারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন নম্বর এন্ট্রি করে তা ডাউনলোড করা যাবে।
শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা পত্রিকা অফিসে সরাসরি কোনো ফলাফল পাওয়া যাবে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
