
চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ব্যাপকভাবে কমে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
গত বছর এই পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ০৭ শতাংশ, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ।
পাসের হারের পাশাপাশি এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও গতবারের চেয়ে কমেছে।
এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯ হাজার ৩৯৮ জন পরীক্ষার্থী, যা গতবার ছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন।
সোমবার সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী এসব তথ্য জানান।
এ বছর চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন।
এর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন শিক্ষার্থী এবং পাস করেছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন।
ছাত্রদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ এবং ছাত্রীদের পাসের হার ৬০ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ।
গতবারের মতো এবারও পাসের হারে ছাত্রীরা ছাত্রদের চেয়ে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ।
এছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
এ বছর চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৭৪ শতাংশ, যা গত বছর ৮১ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ ছিল।
মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং গত বছর তা ৭১ দশমিক ২৯ শতাংশ ছিল।
চট্টগ্রামের বাইরে বোর্ডের অধীন চার জেলাতেই পাসের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
কক্সবাজার জেলায় এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ, যা গত বছর ৭০ দশমিক ৭৬ শতাংশ ছিল।
রাঙামাটিতে এবার ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ৩৪ দশমিক ৯৯ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪৭ দশমিক ৮৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
গত বছর রাঙামাটিতে ৫৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ৬০ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৬৩ দশমিক ১২ শতাংশ পাসের হার ছিল।
বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলও এবার আগের বছরের তুলনায় খারাপ হয়েছে।
এবার ২১টি বিদ্যালয়ের শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে, যা গত বছর ৩৩টি ছিল।
অন্যদিকে এবার আটটি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, যেখানে গত বছর এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা ছিল মাত্র একটি।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল গত ২১ এপ্রিল এবং সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ২০ মে।
সাধারণত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের নিয়ম থাকায় গত ২০ জুলাই ফল প্রকাশের কথা ছিল।
তবে নির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর আজ ১০ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফল প্রকাশ করা হয়েছে।
