
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় তিন বছর ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদ শূন্য। অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার পক্ষে নিয়মিত তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যেই সদ্য প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলে উপজেলার বেশ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়ে বড় ধরনের ধস দেখা গেছে।
উপজেলা সদরের বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ও বাঁশখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের অভিযোগ, নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহির অভাবে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এয়ার মুহাম্মদ বলেন, বাঁশখালীতে প্রায় তিন বছর ধরে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নেই। একই সঙ্গে শিক্ষা বিভাগের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে।
তিনি বলেন, লোহাগাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে মাঝেমধ্যে বাঁশখালীতে এসে দাপ্তরিক কাজ করেন। কিন্তু একাধিক উপজেলার দায়িত্ব পালন করে সব বিদ্যালয় নিয়মিত তদারকি করা কঠিন।
এয়ার মুহাম্মদ বলেন, বিভাগীয় মামলার কারণে নতুন নিয়োগ বন্ধ থাকায় এ ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে।
২৭ বিদ্যালয়ের পাসের হার ৫৩ শতাংশ
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বাঁশখালীর ২৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ৩ হাজার ৯৩৩ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ২ হাজার ৯৩ জন। উপজেলার গড় পাসের হার ৫৩ দশমিক ২১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১৯ জন।
বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, সবচেয়ে ভালো ফল করেছে বাঁশখালী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয় থেকে ১২৯ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১০২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৯ দশমিক ০৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন।
দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নাটমূড়া-পুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ের পাসের হার ৭২ দশমিক ০৩ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা রায়ছটা-প্রেমাশিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার ৭১ দশমিক ৭৭ শতাংশ।
তবে উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ের ফলাফল হয়েছে হতাশাজনক।
১৩ শতাংশ পাস, ৮৬ শতাংশই ফেল
খানখানাবাদ বেদার বখত চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার মাত্র ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ। ২৭টি বিদ্যালয়ের মধ্যে এটি সর্বনিম্ন।
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে নিয়মিত ক্লাস হয় না এবং শৃঙ্খলার ঘাটতি রয়েছে।
এ ছাড়া কামাল উদ্দিন চৌধুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার ২৩ দশমিক ৮১ শতাংশ।
বাঁশখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার ৪৯ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং বাঁশখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৯৯ শতাংশ।
উপজেলার ঐতিহ্যবাহী এই দুটি বিদ্যালয়ের ফলাফল নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে।
কোথায় ভালো করেছে বিদ্যালয়গুলো
নাপোড়া-শেখেরখীল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাঁদের বিদ্যালয়ে ১৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেলেও ৮৪ জন অকৃতকার্য হয়েছে। ফলাফল পর্যালোচনা করে শিক্ষকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন তাঁরা।
ছনুয়া কাদেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল হোসেন ও ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ছানাউল্লাহ চৌধুরী বলেন, টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণ করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এবার ফল ভালো হয়েছে।
বিদ্যালয়টির পাসের হার ৭০ দশমিক ১৮ শতাংশ।
এ ছাড়া কালীপুর এজাহারুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার ৬৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ, পুঁইছড়ি ইজ্জতিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ এবং হাজীগাঁও-বরুমছড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬৭ দশমিক ০৯ শতাংশ।
প্রয়োজন নিয়মিত তদারকি
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একটি উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষার মান ধরে রাখতে শিক্ষা কর্মকর্তার নিয়মিত তদারকি গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন পদ শূন্য থাকলে প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি বিদ্যালয় পর্যায়ের নজরদারিতেও ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
তবে বাঁশখালীর ফল বিপর্যয়ের একমাত্র কারণ যে তদারকির অভাব- এমন কোনো আনুষ্ঠানিক বিশ্লেষণ এখনো পাওয়া যায়নি।
ফলাফলের উন্নয়নে বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান, শিক্ষক উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, ব্যবস্থাপনা কমিটির ভূমিকা এবং শিক্ষা প্রশাসনের নজরদারি- সব বিষয়ই পর্যালোচনার দাবি রাখছে।
