এসএসসির ফলের দিনেও মিষ্টির দোকানে নেই আগের ভিড়


এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন মিষ্টির দোকানে ভিড়- চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দীর্ঘদিনের পরিচিত এক দৃশ্য। ফল ভালো হলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্বজনেরা আনন্দ ভাগাভাগি করতে মিষ্টি কিনতেন। ফল প্রকাশের আগের দিন থেকেই বাড়তি প্রস্তুতি নিতেন মিষ্টি ব্যবসায়ীরা।

তবে এবার সেই চেনা চিত্র দেখা যায়নি। সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন মিরসরাইয়ের বেশির ভাগ মিষ্টির দোকানে ছিল স্বাভাবিক দিনের মতোই ক্রেতার উপস্থিতি। প্রত্যাশিত বিক্রি না হওয়ায় হতাশ হয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মিরসরাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবার উপজেলায় এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৪ হাজার ৯৫১ জন শিক্ষার্থী। উত্তীর্ণ হয়েছে ৩ হাজার ৩৩ জন। পাসের হার ৬১ দশমিক ২৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২৭ জন।

এ ছাড়া দাখিল পরীক্ষায় ১ হাজার ৫৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৮৪ জন। পাসের হার ৭৪ দশমিক ৩১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৮ জন। এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৮৯ জনের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৮৫ জন। পাসের হার ৯৫ দশমিক ৫০ শতাংশ।

আগের মতো নেই বিক্রির ব্যস্ততা

মিরসরাইয়ের মিষ্টি ব্যবসায়ীরা জানান, সাধারণত এসএসসির ফল প্রকাশের দিন অন্য সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি মিষ্টি বিক্রি হতো। ফল প্রকাশের আগেই বাড়তি মিষ্টি তৈরি করে রাখতেন তাঁরা।

মিরসরাইয়ের মিষ্টি ব্যবসায়ী আবু জাফর বলেন, “প্রায় ২০ বছর ধরে এ ব্যবসা করছি। আগে ফল প্রকাশের দিন বাড়তি বিক্রি হতো। আগের দিন থেকেই বেশি মিষ্টি তৈরি করে রাখতাম। কিন্তু এবার তেমন কোনো বাড়তি বিক্রি হয়নি।”

আবুতোরাব বাজারের মিষ্টি ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন বলেন, বিশেষ দিনগুলোকে কেন্দ্র করে তাঁরা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি মিষ্টি প্রস্তুত করেন। এবারও করেছিলেন। কিন্তু চাহিদা কম থাকায় বিক্রি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

তিনি বলেন, “আগে ফল প্রকাশের দিন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজনেরাও মিষ্টি কিনতেন। এবার সেই ভিড় দেখা যায়নি।”

বারইয়ারহাট বাজারের মিষ্টি ব্যবসায়ী মো. কামাল হোসেন বলেন, ফল প্রকাশের দিন ভালো বিক্রির আশায় আগেই প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু দিন শেষে বিক্রি স্বাভাবিক দিনের চেয়ে খুব বেশি বাড়েনি।

তিনি বলেন, “দ্রব্যমূল্যের কারণে অনেকেই হয়তো আগের মতো মিষ্টি কিনছেন না।”

বদলাচ্ছে উদযাপনের ধরন?

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ মনে করছেন, শুধু ফল প্রকাশের দিন নয়, বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানেও মিষ্টি কেনার প্রবণতায় পরিবর্তন এসেছে। তবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে আরও তথ্য প্রয়োজন।

মিষ্টি ব্যবসায়ীদের মতে, আগে পরীক্ষার ফল ভালো হওয়া মানেই ছিল পরিবারে আনন্দের আয়োজন এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ। এখন অনেকেই সীমিত পরিসরে উদযাপন করছেন।

মিরসরাইয়ের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, শিক্ষার্থীদের ফলাফল ভালো হলেও উদযাপনের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা জানানো বা পরিবারের মধ্যেই আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন।

ফলে একসময় এসএসসির ফল প্রকাশের দিন যে বাড়তি বেচাকেনার সুযোগ তৈরি করত মিষ্টির দোকানগুলোতে, এবার তা অনেকটাই কমে এসেছে।