- আবদুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ফাইল ফটো।
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর এসএসসি ফলাফলে বড় ধরনের বৈষম্য দেখা গেছে। ৪৪টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১৯টির পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে। এর মধ্যে কয়েকটি বিদ্যালয়ে পাসের হার ৩০ শতাংশও অতিক্রম করতে পারেনি।
এবার পটিয়া উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো থেকে ৫ হাজার ৭৪৮ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। উত্তীর্ণ হয়েছে ৩ হাজার ১৭৯ জন। উপজেলার গড় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৩১ শতাংশ।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, পাসের হারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে চিটাগাং আইডিয়াল হাই স্কুল, পটিয়া হরিণখাইন ক্যাম্পাস। এ বিদ্যালয় থেকে ১০৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৯৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১০ জন। পাসের হার ৯৩ দশমিক ২০ শতাংশ।
অন্যদিকে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে আবদুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এ বিদ্যালয়ের ২৪৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২০৪ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৫ জন। পাসের হার ৮২ দশমিক ২৬ শতাংশ।
কম পাসের হারের তালিকায় ৫ বিদ্যালয়
পটিয়ার কয়েকটি বিদ্যালয়ে ফলাফল তুলনামূলক খারাপ হয়েছে।
পৌর এলাকার শাহ আমিন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র ১৩ জন। কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। বিদ্যালয়টির পাসের হার ১৯ দশমিক ৪০ শতাংশ।
আশিয়া ইউনিয়নের বাথুয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৫ জন। পাসের হার ২৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ।
কচুয়াই ইউনিয়নের চক্রশালা কৃষি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৮২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে একজন। বিদ্যালয়টির পাসের হার ২৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ।
হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ৫৩ জন। কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি। পাসের হার ২৭ দশমিক ৭২ শতাংশ।
আজিমপুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে পাঁচজন। পাসের হার ২৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
কম পাসের হারেও জিপিএ-৫
তবে পাসের হার কম হলেও কিছু বিদ্যালয়ে জিপিএ-৫ পাওয়ার ব্যতিক্রমী চিত্র রয়েছে।
জঙ্গলখাইন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আটজন, মুকুটনাইট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে চারজন এবং করল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে তিনজন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
জিপিএ-৫ প্রাপ্তির হিসাবে শীর্ষ পাঁচ বিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে আবদুর রহমান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সৈয়দ আবদুন নুর উচ্চ বিদ্যালয় (এসএ নুর) এবং খলিলুর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়।
পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩২৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২৩৬ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৪ জন। পাসের হার ৭২ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
এস আলম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৬৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১২৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২২ জন। পাসের হার ৭৫ দশমিক ৩০ শতাংশ।
সৈয়দ আবদুন নুর উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২৪৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৩৩ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ জন। পাসের হার ৫৩ দশমিক ৮৫ শতাংশ।
খলিলুর রহমান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩৪১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ২০৭ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১১ জন। পাসের হার ৬০ দশমিক ৭০ শতাংশ।
মাদ্রাসায় পাসের হার বেশি
মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তুলনায় পটিয়ায় মাদ্রাসার ফলাফল তুলনামূলক ভালো হয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে উপজেলার ২৩টি মাদ্রাসা থেকে ৮৬৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। উত্তীর্ণ হয়েছে ৬২৯ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০ জন। পাসের হার ৭২ দশমিক ৭২ শতাংশ।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ছয়টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৩৫৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১৮৫ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে পাঁচজন। পাসের হার ৫২ দশমিক ৪১ শতাংশ।
শিক্ষকদের আন্তরিকতার ঘাটতি কাটানোর তাগিদ
ফলাফলের বিষয়ে হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল দে বলেন, গ্রামের বিদ্যালয় হওয়ায় বিভিন্ন চাপের কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হয়েছে। বিদ্যালয়ের কাজে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেননি বলেও জানান তিনি।
চক্রশালা কৃষি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসির উদ্দীন বলেন, আগের বছরের কিছু শিক্ষার্থীকে এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।
পটিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দীপেন কান্তি বলেন, এবারের ফলাফল সন্তোষজনক নয়। শিক্ষকদের আরও আন্তরিক হলে ফলাফলের উন্নতি সম্ভব।
তিনি বলেন, পটিয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের তুলনায় ভালো হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ফলাফলের পার্থক্য কমাতে বিদ্যালয়ভিত্তিক দুর্বলতা চিহ্নিত করা, নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

