
চট্টগ্রামের রাউজানে এবারের দাখিল পরীক্ষায় একটি মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। পাঁচখাইন মুহিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসা থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১০ জন শিক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।
১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসার এমন ফলাফলে হতাশ প্রতিষ্ঠানটির প্রধান।
উপজেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবার রাউজানের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে পাসের হার ৬২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ৫৯টি বিদ্যালয় থেকে ৪ হাজার ৩৭০ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ২ হাজার ৬৪১ জন।
অন্যদিকে দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার ২৩টি মাদ্রাসা থেকে ৯৮৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। উত্তীর্ণ হয়েছে ৫৩৬ জন। পাসের হার ৬৪ দশমিক ২ শতাংশ। এবার রাউজানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৮ জন শিক্ষার্থী।
এর মধ্যে পাঁচখাইন মুহিউল উলুম দাখিল মাদ্রাসার ১০ পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আতাউল মোস্তাফা বলেন, “আমার বলার কোনো ভাষা নেই। একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি- এ অবস্থায় কী বলব।”
তিনি বলেন, ফলাফলের পেছনে অভিভাবকদের অসচেতনতা ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় অনীহাও ভূমিকা রেখেছে।
তবে মাদ্রাসাটির একাডেমিক কার্যক্রম, শিক্ষক উপস্থিতি, পাঠদানের পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও রাউজান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম রাহাতুল ইসলাম বলেন, রাউজানের স্কুল ও মাদ্রাসার ফলাফল পর্যালোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, “যে মাদ্রাসা থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি, সেখানে কী ধরনের সমস্যা রয়েছে তা তদারকি করে দেখা হবে।”
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, একটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল শুধু শিক্ষার্থীদের ওপর নির্ভর করে না; শিক্ষক, প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, পাঠদানের পরিবেশ এবং নিয়মিত তদারকির বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে শতভাগ অকৃতকার্যের কারণ খুঁজে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
