আনোয়ারায় এসএসসির ফলে বড় পার্থক্য, এগিয়ে কাফকো-সিইউএফএল


চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে পাসের হার কমেছে। এর প্রভাব পড়েছে আনোয়ারার বিভিন্ন বিদ্যালয়েও। তবে উপজেলার বিদ্যালয়গুলোর ফলাফলে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। শিল্পাঞ্চলসংলগ্ন কাফকো স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার (সিইউএফএল) স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৯২ শতাংশের বেশি। বিপরীতে ১২টি বিদ্যালয়ে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে।

আনোয়ারা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

তালিকা অনুযায়ী, পাসের হারে উপজেলার ২৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে কাফকো স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯২ দশমিক ৮৬ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার স্কুল অ্যান্ড কলেজ। তাদের পাসের হার ৯২ দশমিক ০৬ শতাংশ।

তৃতীয় অবস্থানে আনোয়ারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৭৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ। চতুর্থ পীরখাইন মাওলানা আশরাফ চৌধুরী হাই স্কুলের পাসের হার ৭৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

এরপর রয়েছে ঝি. বা. শি উচ্চ বিদ্যালয়—৬৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ এবং আনোয়ারা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়—৬১ দশমিক ৬৪ শতাংশ।

১২ বিদ্যালয়ে পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে

অন্যদিকে তালিকার নিচের দিকে থাকা বিদ্যালয়গুলোর ফলাফল বেশ দুর্বল। ২৬টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ১২টির পাসের হার ৫০ শতাংশের নিচে।

এর মধ্যে কৈনপুরা হাই স্কুলের পাসের হার সবচেয়ে কম- ২৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অর্থাৎ চারজনের মধ্যে প্রায় তিনজনই অকৃতকার্য হয়েছে।

ভক্তিয়াপাড়া চারপীর আউলিয়া (রহ.) হাই স্কুলের পাসের হার ৩০ শতাংশ। গুজরা হাই স্কুলে ৩১ দশমিক ৫৮ শতাংশ, জেকেএস হাই স্কুলে ৩৬ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং চাতরী ইউনিয়ন এমএল হাই স্কুলে ৩৮ দশমিক ৪২ শতাংশ।

হাজীগাঁও শোলকাটা এসজে নিজাম হাই স্কুলে পাসের হার ৩৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ। মেরিন একাডেমি হাই স্কুলে ৪০ দশমিক ০৯ শতাংশ, সিংহরা রামকানাই উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪০ দশমিক ৮০ শতাংশ এবং গুয়াপঞ্চক হাই স্কুলে ৪০ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

রায়পুর ইউনিয়ন হাই স্কুলের পাসের হার ৪৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। পূর্ব বরৈয়া টিএমসি হাই স্কুলে ৪৬ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং মাহাতা পাটনীকোটা হাই স্কুলে ৪৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ।

খাসখামা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাসের হার ঠিক ৫০ শতাংশ।

ভালো ফলের তালিকায় শিল্পাঞ্চলের দুই প্রতিষ্ঠান

ফলাফলের তালিকায় একটি বিষয় স্পষ্ট- শীর্ষে থাকা দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিচের সারির বিদ্যালয়গুলোর পাসের হারে বড় ব্যবধান রয়েছে।

কাফকো স্কুল অ্যান্ড কলেজে পাসের হার ৯২ দশমিক ৮৬ শতাংশ, আর সর্বনিম্ন কৈনপুরা হাই স্কুলে ২৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অর্থাৎ দুই প্রতিষ্ঠানের পাসের হারের ব্যবধান ৬৭ দশমিক ০৯ শতাংশীয় পয়েন্ট।

সিইউএফএল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সঙ্গেও নিচের সারির বিদ্যালয়গুলোর ব্যবধান বড়। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯২ দশমিক ০৬ শতাংশ।

এর বাইরে ৭০ শতাংশের বেশি পাসের হার রয়েছে আরও দুটি বিদ্যালয়ে- আনোয়ারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (৭৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ) এবং পীরখাইন মাওলানা আশরাফ চৌধুরী হাই স্কুল (৭৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ)।

গ্রামীণ বিদ্যালয়েই কি ফল খারাপ?

আনোয়ারার বিদ্যালয়গুলোর ফলাফলে এই পার্থক্যের কারণ কী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উপজেলার প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকার কয়েকটি বিদ্যালয়ের ফলাফল তুলনামূলকভাবে দুর্বল। তবে শুধু অবস্থান দিয়ে ফলাফলের কারণ ব্যাখ্যা করা যায় না। কারণ তালিকায় ভালো ফল করা কয়েকটি বিদ্যালয়ও শিল্পাঞ্চলের বাইরে রয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ এলাকার কয়েকটি বিদ্যালয়ে বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে ফল খারাপ হয়েছে। মানবিক বিভাগের ফলও সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।

তবে বিদ্যালয়ভিত্তিক ফলের এই পার্থক্যের পেছনে শিক্ষকসংকট, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, নিয়মিত পাঠদান, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা কিংবা বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনার ভূমিকা কতটা- এ বিষয়ে কোনো তুলনামূলক বিশ্লেষণ পাওয়া যায়নি।

কাফকো-সিইউএফএলের ভালো ফল

কাফকো স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ও কাফকোর প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ফারুক বলেন, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবার পাসের হার কমলেও তাঁদের শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করেছে।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের নিবিড় তদারকি ও অভিভাবকদের সচেতনতা শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

সিইউএফএল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শিব শঙ্কর সাহা বলেন, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের বিশেষ নজর এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশের কারণে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে পেরেছে।