আদালতের রায় অমান্য করে নামজারি বাতিল বাঁশখালীতে


বাঁশখালীতে দেওয়ানি আদালতের চূড়ান্ত রায় উপেক্ষা করে নামজারি বাতিলের অভিযোগে চার ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) বাঁশখালীর পুঁইছড়ি ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের নাপোড়া গ্রামের মীরপাড়ার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম এই অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযুক্ত চার কর্মকর্তা হলেন বাঁশখালীর সদ্য সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ড মো. ওমর সানী আকন, বাঁশখালী উপজেলা ভূমি অফিসের কানুনগো মোশাররফ হোসেন, একই অফিসের সার্ভেয়ার কামরুল ইসলাম এবং চাম্বল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দীন।

অভিযোগে বলা হয়, সাতকানিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে ফকির মোহাম্মদ ১৯৮০ সালে কাছিম আলীর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।

পরে বদলি সূত্রে মামলাটি বাঁশখালী সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয় এবং ওই আদালত ১৯৮৫ সালে ফকির মোহাম্মদের পক্ষে রায় ও ডিক্রি দেন।

১৯৮৬ সালে আদালতের নির্দেশে অপর জারী মোকদ্দমা সূত্রে ২০ শতক জমির একটি রেজিস্ট্রিকৃত কবলা দলিল ফকির মোহাম্মদের পক্ষে সম্পাদিত হয়।

১৯৯৭ সালে আরিফুল ইসলাম ও তাঁর ভাই ওই জমি কিনে নেন এবং ২০১৯ সালে আদেশের মাধ্যমে নিজেদের নামে নতুন নামজারি খতিয়ান সৃজন করেন।

তবে ১৯৫৮ সালে কাছিম আলীর কাছে জমি বিক্রি করে নিঃস্বত্ববান হওয়া কাদের বক্সের কথিত নাতি এবং মৃত কবির আহমদের ছেলে নেজাম উদ্দীনের অভিযোগের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়।

গত ৮ জুলাই একটি মিছ মামলার আদেশের মাধ্যমে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানী আকনসহ অভিযুক্ত অন্য কর্মকর্তারা আরিফুল ইসলামের নামজারি বাতিল করেন।

ওই আদেশে জমিটি পুনরায় পূর্ববর্তী মালিক কাছিম আলীর বিএস খতিয়ানে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

আরিফুল ইসলামের দাবি, বিএস খতিয়ান সংশোধনের জন্য দেওয়ানি আদালতে অপর একটি মামলা চলমান থাকার পরও নামজারি বাতিলের এই আদেশ সম্পূর্ণ বেআইনি।

তিনি অভিযোগ করেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে আদালতের রায় অকার্যকর সাব্যস্ত করেছেন, যা সরকারি কর্মচারী বিধিমালা অনুযায়ী চরম অসদাচরণ।

অভিযোগের বিষয়ে চাম্বল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা মো. মহিউদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আদালতের ডিক্রি থাকলেও আপিলের কাগজপত্র না দিলে নামজারি বাতিল হবে এবং এটি ডিসির খাস জমি হওয়ায় নামজারির জন্য ডিসির অনুমতি লাগবে।

নোটিশ না দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, নোটিশ এসিল্যান্ড করে থাকেন, তাঁরা নোটিশ করেন না।

আদালতের রায় অবমাননার অভিযোগ প্রসঙ্গে এই ভূমি কর্মকর্তা বলেন, রায় অবমাননা হলে সেটি আদালত দেখবে।

এদিকে বাঁশখালীর সদ্য সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানী আকন সদ্য বদলি হওয়ায় তাঁর বক্তব্য জানা যায়নি।