
লোকালয়ে বন্য হাতি চলে এলে মানুষের জানমাল রক্ষায় কী করণীয়, সে সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে চট্টগ্রামের পটিয়ায় একটি আলোচনা সভা ও র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের উদ্যোগে পটিয়ার হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে এই সভার আয়োজন করা হয়।
বন উজাড় এবং আবাসস্থল সংকটের কারণে বন্য হাতি লোকালয়ে এসে মানুষের সাথে সংঘাতে জড়াচ্ছে বলে অনুষ্ঠানে আলোকপাত করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুকান্ত তালুকদার।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পটিয়া রেঞ্জ কর্মকর্তা এমদাদুল হক এই সচেতনতামূলক সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন।
হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।
তাঁদের মধ্যে ছিলেন বরগুনী বিট কর্মকর্তা রহমত আলী এবং শ্রীমাই বিট কর্মকর্তা মো. ফয়সাল।
এছাড়া হাইদগাঁও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য জিন্নাতুর রহমান এবং শিক্ষা প্রতিনিধি আব্দুল মান্নান সেখানে বক্তব্য দেন।
রেসকিউ টিমের সদস্য নাঈমুদ্দিন বিজয় এবং বন বিভাগের কেয়ারটেকার মো. মহিউদ্দিনও সভায় উপস্থিত থেকে নিজেদের মত তুলে ধরেন।
সভায় বক্তারা জানান যে বন্য হাতি বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
হাতির আবাসস্থল রক্ষা করা এবং মানুষ ও হাতির মধ্যে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বন্য হাতি লোকালয়ে চলে এলে দ্রুত গ্রামের মানুষকে সতর্ক করতে হবে এবং বন বিভাগের কর্মকর্তাদের খবর দিতে হবে।
এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে দলবদ্ধ থাকার এবং একাকী হাতির সামনে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাতিকে লোকালয় থেকে দূরে রাখতে লাঠি, বাঁশি, টিন ও ঢোল বাজিয়ে এবং পটকা ফাটিয়ে শব্দ করার কথা বলা হয়েছে।
এছাড়া টর্চ বা সার্চলাইট এবং মশাল জ্বালিয়ে সমস্বরে চিৎকার করে হাতিকে ভয় দেখানোর উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাতির চলাচলের পথে বাধা সৃষ্টি না করা এবং মুঠোফোনে ছবি বা ভিডিও ধারণের জন্য হাতির কাছাকাছি না যাওয়ারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সভা শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে হাতি ও বন সংরক্ষণে একটি জনসচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়।
র্যালিটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে আশপাশের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বিদ্যালয়ে এসে শেষ হয়।
