বাঁশখালীতে স্কুলছাত্রের মৃত্যু ঘিরে ধোঁয়াশা, তড়িঘড়ি সৎকার

বাঁশখালীতে এক স্কুলছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যুর পর পুলিশকে না জানিয়ে তড়িঘড়ি করে লাশ সৎকারের অভিযোগ উঠেছে।

এই ঘটনায় নিহতের পিতা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং আদালত পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

নিহত শিক্ষার্থীর নাম সুবর্ণ দে এবং তার বয়স ১৬ বছর।

সে বাঁশখালীর বাণীগ্রাম-সাধনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির মানবিক শাখার ছাত্র ছিল।

গত ১০ জুলাই ভারী বৃষ্টির মধ্যে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

মৃত্যুর পর পুলিশকে না জানিয়ে মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে লাশ সৎকার করা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

গত ৩ আগস্ট নিহতের পিতা সুখেন্দু বিকাশ দে বাঁশখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার আসামিরা হলেন দক্ষিণ বাণীগ্রাম মাস্টারপাড়ার বানছারাম দের ছেলে ভূপতি দে ও মৃদুল দে।

এছাড়া ভূপতি দের ছেলে রুবেল দে, ভূপতি দের স্ত্রী শিল্পী দে, রুবেল দের স্ত্রী মনি দে এবং রুপন দের স্ত্রী চুমকি দেকেও এই মামলায় আসামি করা হয়েছে।

মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়, আসামিরা সুখেন্দু বিকাশ দেকে ভিটা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছিল।

সুবর্ণ এসব অপকর্মের প্রতিবাদ করায় তাকে একা পেয়ে হত্যা করে লাশ ঘরের মেঝেতে শুইয়ে রাখা হয় বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

নিহতের মা সজু দে জানান, সকালে তিনি দুই কিলোমিটার দূরের একটি মন্দিরে প্রার্থনায় গিয়েছিলেন এবং তাঁর স্বামী কৃষিকাজে মাঠে ছিলেন।

সুবর্ণ বাড়িতে একা থাকার সুযোগে আসামিরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

সুখেন্দু বিকাশ দে জানান, ছেলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে আসামিরা তাঁর বিনা অনুমতিতে আধা ঘণ্টার মধ্যে লাশ সৎকার করে ফেলে।

হত্যার আলামত নষ্ট করতেই আসামিরা পুলিশকে না জানিয়ে দ্রুত সৎকার করেছে এবং তিনি আসামির কাছে হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি গামছাও খুঁজে পেয়েছেন বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে মামলার আসামিরা হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে এটিকে পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা বলে দাবি করেছেন।

সুবর্ণের জেঠা ভূপতি দে দাবি করেন, তিনি ওই সময় ধানের বীজতলায় কাজ করছিলেন এবং ঘটনার সময় সেখানে ছিলেন না।

চুমকি দে জানান, গরুর ঘাস কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে সুবর্ণ আত্মহত্যা করেছে এবং তারা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিলেন।

শিল্পী দে জানান, সম্পত্তি নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই এবং সুবর্ণ তার বাবা-মায়ের ওপর অভিমান করেই আত্মহত্যা করেছে।

তবে এলাকায় শুরুতে প্রচার করা হয়েছিল যে সুবর্ণ মৃগী রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সনজয় দে এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অসিত কুমার সেন জানান, মৃগী রোগে মৃত্যুর কথা জেনেই অনেকে সৎকারের জন্য এসেছিলেন।

সাধনপুর ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ টিপু কান্তি দে জানান, সেদিন অতিবৃষ্টির কারণে কেরোসিন ও গাড়ির পরিত্যক্ত টায়ার ব্যবহার করে তড়িঘড়ি করে সৎকার করা হয়।

সৎকারের আগে বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়নি বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য করুণাময় ভট্টাচার্য জানান, তিনি সেদিন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সাথে ‘দ্য কিং অব বাঁশখালী’ নামের কমিউনিটি সেন্টারে একটি সভায় ছিলেন।

তিনি জানান, ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ সৎকার করা সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ হয়েছে।

বাঁশখালী থানার ওসি রবিউল হক জানিয়েছেন, মৃত্যুর বিষয়টি থানা বা রামদাস হাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রকে কেউ অবগত করেনি।

তবে আদালতে মামলা হওয়ার পর সিআইডি বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।