একুশে পত্রিকায় সংবাদের পর ইছামতীতে ড্রেজার জব্দ


একুশে পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ইছামতী খাল থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ড্রেজার মেশিন জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঘাগড়া খিল মোগল দক্ষিণ পাড়া সংলগ্ন তুলাতলা এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

নবাগত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন।

এ সময় তাঁর সঙ্গে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানান, ঘটনাস্থলে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি।

সোমবার সন্ধ্যায় তিনি জানান, এসিল্যান্ড বিকেল চারটার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাউকে না পেলেও বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ড্রেজার ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করেছেন।

ইছামতী খাল থেকে বালু উত্তোলন বন্ধে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আনার জন্য প্রতিবেদককে ধন্যবাদও জানান ইউএনও নাজমুল হাসান।

এর আগে সোমবার বেলা তিনটার দিকে একুশে পত্রিকায় ‘রাঙ্গুনিয়ায় প্রশাসনের নীরবতায় ইছামতী থেকে বালু উত্তোলন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়, যার পর প্রশাসন তৎপর হয়।

উল্লেখ্য, স্থানীয় সংসদ সদস্যের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইছামতী খাল থেকে বালু উত্তোলনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

রোববার রাত আটটার দিকে ‘ইছামতী খাল রক্ষা আন্দোলন কমিটি’র এক নেতার মাধ্যমে মেশিন বসানোর খবর পেয়ে প্রতিবেদক প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগের চেষ্টা করেন।

রাত দশটা পঞ্চাশ মিনিটে ইউএনও জানান যে উপজেলায় এসিল্যান্ড নেই এবং তিনি বিষয়টি রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ বা ওসিকে জানিয়েছেন।

পরবর্তীতে সার্কেল এএসপিকে ফোনে না পেয়ে হোয়াটসঅ্যাপে এবং সাংবাদিকদের একটি যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।

রাত এগারোটার দিকে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা বালু উত্তোলনের বিষয়টি নিশ্চিত করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

পরে রাত সাড়ে বারোটার দিকে স্থানীয় গ্রাম পুলিশ বা চৌকিদার জানান যে ওপর মহলের নির্দেশে মেশিনের লাইন খুলে ফেলা হয়েছে।

সোমবার সকালে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ জানান এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি করেন।

মোগলের হাট-রাজারহাট সড়ক ও একটি মসজিদের পাশে অবস্থিত ওই স্থানে বালু উত্তোলন বন্ধ থাকলেও সেখানে মেশিন ও পাইপ পড়ে ছিল বলে ইছামতী খাল রক্ষা আন্দোলন কমিটি জানিয়েছিল।