স্ত্রীর ৯৯৯-এ ফোনে ধরা পড়ল জালনোটের কারবারি


জান্নাত আরা বেগম আর পারছিলেন না। স্বামী শাহ আলম বারবার চাপ দিচ্ছিলেন তাঁকে জালনোটের ব্যবসায় টেনে নামাতে। প্রতিবারই না বলেছেন তিনি। কিন্তু সোমবার বিষয়টা হাতাহাতিতে গড়াল। আহত হলেন স্বামী-স্ত্রী, সঙ্গে তাঁদের সন্তানও। একপর্যায়ে কাঁপা হাতে ৯৯৯ নম্বরে ফোন তুললেন জান্নাত আরা। সেই একটি ফোনেই বদলে গেল সব। পুলিশ এসে শুধু পারিবারিক বিরোধ মেটাতে আসেনি, বের করে এনেছে দীর্ঘদিনের একটি জালনোটের কারবার।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের পূর্ব হাজারবিঘা এলাকায় সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে এই ঘটনা ঘটে। আটক হয়েছেন ফেরদৌস আহমদের ছেলে মো. শাহ আলম (৩৫)। তার ঘর থেকে উদ্ধার হয়েছে ৫০০ টাকার ৫৪টি জালনোট, মোট মূল্য ২৭ হাজার টাকা।

স্ত্রীকে নামাতে চেয়েছিলেন অন্ধকারের এই ব্যবসায়

পুলিশ জানায়, শাহ আলম দীর্ঘদিন ধরে জালনোটের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এই অবৈধ কারবারে স্ত্রীকেও যুক্ত করতে চাইছিলেন তিনি। কিন্তু জান্নাত আরা রাজি হননি। সেই দ্বন্দ্বই ধীরে ধীরে রূপ নেয় পারিবারিক কলহে, শেষে হাতাহাতিতে।

লোহাগাড়া থানার এসআই আজিজুল হক লিটন বলেন, ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পারিবারিক বিরোধের কারণ খুঁজতে গিয়েই জালনোটের কারবারের বিষয়টি সামনে আসে। স্ত্রী জানান, শাহ আলম তাঁকে এই ব্যবসায় যুক্ত হতে চাপ দিচ্ছিলেন। রাজি না হওয়ায় মারধর করা হয়।

স্ত্রীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তল্লাশি চালায় শাহ আলমকে যে কক্ষে রাখা হয়েছিল সেখানে। সেখান থেকেই মিলল জালনোটের বান্ডিল।

জামিনে বেরিয়ে থামেনি, এবার তৃতীয়বার ধরা

এটা শাহ আলমের প্রথম সংঘাত নয় আইনের সঙ্গে। লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক জানান, শাহ আলমের বিরুদ্ধে এর আগেও জাল টাকা সংক্রান্ত দুটি মামলা রয়েছে। জামিনে বেরিয়ে আবারও একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

তিনি আরও জানান, শাহ আলমের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৫০০ টাকার ৫৪টি জালনোট। এসব নোটের মোট মূল্য ২৭ হাজার টাকা। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

ঘরের অন্ধকারেই লুকানো ছিল সত্য

এই ঘটনা একটি প্রশ্ন সামনে এনে দেয়। জালনোটের কারবার শুধু বাজারে ছড়ায় না, অনেক সময় ছড়ায় ঘরের ভেতর থেকেও। শাহ আলম চেয়েছিলেন স্ত্রীকেও এই অন্ধকারে টেনে নিতে। কিন্তু জান্নাত আরা সেই অন্ধকারে হাঁটতে রাজি হননি। তার একটি ফোনেই আলো পড়ল।