‘ওরা দোকান-টোকান থেকে কপি-পেস্ট করে দেয়’

‘ওরা দোকান-টোকান থেকে কপি-পেস্ট করে দেয়’
কোটেশন পদ্ধতিতে কারা দর দেওয়ার সুযোগ পান, আর কেন পান- এই প্রশ্নের সবচেয়ে অকপট উত্তরটি এসেছে একজন সরকারি প্রকৌশলীর কাছ থেকেই। ২৬ জুলাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের চট্টগ্রাম পওর বিভাগ-১-এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বর্ণ হক যা বলেছেন, তার পূর্ণ ভাষ্য।

কোটেশন আসলে কী?

“সারা বছর ধরে যাদেরকে দিয়ে এই মেরামতগুলা করাচ্ছি, এদেরকে আমি পেমেন্টটা করি হচ্ছে মে-জুন মাসে এসে। এদের জন্যই আসলে কোটেশন সিস্টেম।”

দর কারা দিতে পারেন?

“কোটেশন আমরা নিজেরা কী করি, কনট্রাক্টরের লাইসেন্স সিলেক্ট করি। তিন থেকে পাঁচটা লাইসেন্স ইজিপিতে আমরা সিলেক্ট করব, তারাই কোটেশন দিবে, অন্য কেউ কিন্তু দেখবেও না, দিতেও পারবে না।”

কাদের বেছে নেওয়া হয়? “সারা বছর টুকটাক টুকটাক যাদেরকে দিয়ে কাজ করাইছি, এদেরকে পেমেন্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে সিলেক্ট করে দিব।”

কেন দেরি করা যায় না?

“বন্যার আগে… পতেঙ্গার যে স্লুইসগুলা আছে আমরা একবার পরিষ্কার করছি… নাইলে সিটি কর্পোরেশন, সিডিএ ফোন দিয়ে পাগল করে তুলবে।” আর একবার পরিষ্কার করলেই হয় না- “আমার তো এটা সারা বছর ক্লিন রাখতে হবে।”

দুটি চুক্তির দর পয়সা পর্যন্ত এক কেন?

প্রথমে বললেন, ঠিকাদার দুটিতেই একই হারে ছাড় দিয়েছেন- “একই কাজ দেখে হয়তো সে দুইটা একই রকম দিছে আরকি।”

তারপর যোগ করলেন এমন একটি কথা, যা ব্যবস্থাটির শেষ প্রান্ত দেখিয়ে দেয়:

“এত ছোট কনট্রাক্টরদের তো আলাদা অফিস সেটআপ থাকে না… ওরা দোকান-টোকান থেকে কপি-পেস্ট করে দেয় আরকি।”

যা দাঁড়ায়। কোটি টাকার সরকারি ক্রয়-ব্যবস্থার শেষ প্রান্তে দর তৈরি হচ্ছে পাড়ার কম্পিউটারের দোকানে, একই টেমপ্লেটে। ব্যাখ্যাটি বিশ্বাসযোগ্য, এবং সে কারণেই আরও অস্বস্তিকর। কারণ তা সত্য হলে এই “প্রতিযোগিতা”য় জেতা দরটি বাজারদর যাচাইয়ের ফল নয়- একটি অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি।

সহযোগিতার নোট। নথি চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি রাজি হন- “এটা একশ বার পাওয়া যাবে… দাঁড়ান আমি এপিপিটা আপনাকে প্রিন্ট করে দেই।” দুই দিন পর তিনি পাঠিয়ে দেন পূর্ণ বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা ও বাপাউবোর আর্থিক ক্ষমতা-সংক্রান্ত সার্কুলার। নথি মিলিয়ে দেখা গেছে, স্মৃতি থেকে বলা তাঁর সংখ্যাগুলো অবিকল ঠিক।

মূল প্রতিবেদন: ‘তিন থেকে পাঁচটা লাইসেন্স আমরাই বেছে দিই, অন্য কেউ দেখবেও না’