
এক দিনে এক দপ্তরের ১৫টি কোটেশন-চুক্তি– এই তথ্য নিয়ে প্রশ্ন গিয়েছিল অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের কাছে। জবাব এসেছে এই অনুসন্ধানের যেকোনো দপ্তরের চেয়ে দ্রুত। তবু দুটি প্রশ্ন অনুত্তরিত থেকে গেছে।
৪ ও ৬ আগস্ট- দুই দিন পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী খ. ম. জুলফিকার তারেকের দপ্তরে যাওয়া হয়; দুবারই তিনি ছিলেন না। ৬ আগস্ট সকালে ফোনে পাওয়া গেলে জানা যায় তিনি ঢাকায়। কোটেশনের অনুমোদন তাঁর দপ্তর থেকেই হয়- এ কথা তুলতেই তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল প্রশ্নটি নিচে ফিরিয়ে দেওয়া: “আমার এখান থেকে তো আর হয় না, এক্সেন অফিস থেকে হয়। এক্সেন আছে তো, এক্সেনদের কাছে যান।”
সেদিন বিকেল ৩টা ৩৬ মিনিটে পাঁচটি লিখিত প্রশ্ন যায় তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে ও ই-মেইলে, সঙ্গে ১৯ মে-র ১৫ চুক্তির পূর্ণ তালিকা।
যা জানতে চাওয়া হয়েছিল
এক দিনে এক দপ্তরের ১৫টি কোটেশন-চুক্তি অনুমোদনের সময় তাঁর দপ্তর কী যাচাই করে; বছরের কোটেশন-কোটার ৯৪ শতাংশ পরিকল্পনাতেই ধরে রাখার কারণ; তার পুরোটা শেষ দুই মাসে খরচ হওয়ার কারণ; বিধি ২৫(৬) ও ৯০(৪)(ক)-এর প্রতিপালন কে দেখে; এবং কাজ-ভাগের অভিযোগ উঠলে কোন স্তরে তা পরীক্ষা হয়।
যা জবাব এসেছিল
দুই ঘণ্টার মধ্যে প্রথম বার্তা, ইংরেজিতে, এক লাইনে:
“My office just check the amount requested has within public procurement rule or not.”
অর্থাৎ তাঁর দপ্তর দেখে কেবল একটি জিনিস- চাওয়া অঙ্কটি বিধির সীমার ভেতরে কি না।
দ্বিতীয় প্রশ্নটি আবার পাঠানোর নয় মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় বার্তা:
“If PE thinks that he divide it small lot to ensure achieve value for money then I don’t see any problem. And RFQ is very small work, thus if PE subdivided it into few lot then it will not make any potential deviation.”
অর্থাৎ ক্রয়কারী দপ্তর যদি মনে করে অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য কাজটি ছোট ভাগে ভাঙা দরকার, তাতে তিনি সমস্যা দেখেন না।
যা জবাব আসেনি
কোটার ৯৪ শতাংশ আগেভাগে ধরে রাখার কারণ, এবং তা শেষ দুই মাসে খরচ হওয়ার কারণ- দুটি প্রশ্নের কোনোটির উত্তর দুই বার্তার একটিতেও নেই।
একটি প্রেক্ষাপট। এই অনুসন্ধানে ৪০টি দপ্তর ও ব্যক্তির কাছে প্রশ্ন গেছে। দ্রুততম জবাব এসেছে এখান থেকেই- দুই ঘণ্টায়। প্রশ্নটি তাই সহযোগিতার নয়; প্রশ্নটি হলো, দপ্তরটি নিজের দায়িত্বের সীমা কোথায় টানে। মাঠপর্যায় বলছে, পরিকল্পনার বাইরে তারা যেতে পারে না। আর অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ বলছেন, তাঁরা কেবল অঙ্কটি সীমার ভেতরে কি না তা-ই দেখেন। বিধি ২৫(৬) কাগজে আছে- যাচাই করার কেউ নেই।
মূল প্রতিবেদন: ‘তিন থেকে পাঁচটা লাইসেন্স আমরাই বেছে দিই, অন্য কেউ দেখবেও না’
