
একই মালিকের দুটি প্রতিষ্ঠান একই দপ্তরের ক্রয়ের ৮২ শতাংশ পেলে আইন কী বলে? উত্তরটি অস্বস্তিকর- আইন এখানে কার্যত নীরব। তিনটি বিধান আছে, তিনটিরই সীমা আছে।
পিপিএ ২০০৬, ধারা ৬৪
দরদাতাদের মধ্যে যোগসাজশ নিষিদ্ধ; প্রমাণিত হলে কালোতালিকাভুক্তিসহ শাস্তির বিধান আছে।
ফাঁক: যোগসাজশ প্রমাণের জন্য দুই প্রতিষ্ঠানকে একই দরপত্রে থাকতে হয়। ভিন্ন ভিন্ন দরপত্রে অংশ নিলে ধারাটি প্রযোজ্য হয় না। অথচ ফলাফল একই- বাজারের একটি বড় অংশ একজনের হাতে।
পিপিআর ২০২৫, বিধি ৪৯(২) ও তফসিল-২
১০ লাখ টাকার ঊর্ধ্বের ক্রয়ে ঠিকাদারের প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিকের নাম, শতাংশ ও দেশ প্রকাশ বাধ্যতামূলক। উদ্দেশ্য পরিষ্কার- কাগজে ভিন্ন নাম থাকলেও পেছনের মানুষটি যেন চেনা যায়।
ফাঁক: তথ্যটি প্রকাশের বাধ্যবাধকতা আছে, কিন্তু একই নাম একাধিক প্রতিষ্ঠানে এলে তা শনাক্ত বা সতর্ক করার কোনো বিধান বা কারিগরি ব্যবস্থা নেই। ঘরটি একটি সংরক্ষণাগার- যাচাইয়ের যন্ত্র নয়।
ক্রয়-আইন বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী মামুনুল হক চৌধুরীর ভাষায়, এটি কেবল তথ্য প্রকাশের নিয়ম- “নামটা দিয়ে কী করতে হবে, কোনো সিদ্ধান্তে সেটা ব্যবহার করতে হবে কি না, তার কোনো নির্দেশনা নেই।”
বিপিপিএ আইন ২০২৩, ধারা ৯
ক্রয় আইনের “প্রতিপালন নিশ্চিতকরণ, পরিবীক্ষণ” এবং প্রয়োজনে ক্রয়কারীর নথি “পরিদর্শন ও পর্যালোচনাকরণ” বিপিপিএর দায়িত্ব।
ফাঁক: দায়িত্বটি বিধানে আছে, কিন্তু তা কীভাবে পালিত হবে- সেই প্রক্রিয়া বিধিমালায় নির্দিষ্ট করা নেই। নিয়মিত পরিবীক্ষণের কোনো প্রকাশিত প্রতিবেদনও নেই।
যা বিধিমালায় নেই
দুটি শব্দ শুনতে প্রাসঙ্গিক মনে হলেও এখানে খাটে না।
“স্বার্থের দ্বন্দ্ব”: তফসিলটি কর্মকর্তা ও দরদাতার সম্পর্ক নিয়ে- আত্মীয়তা, বন্ধুত্ব বা ব্যবসায়িক বিনিয়োগ থাকলে তা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা। দুই দরদাতার পারস্পরিক সম্পর্ক এর আওতায় পড়ে না।
“সহযোগী প্রতিষ্ঠান”: শব্দটি বিধিমালায় আছে কেবল পরামর্শক সেবার ক্ষেত্রে- নকশাকারী প্রতিষ্ঠান যেন একই প্রকল্পের তদারকি না পায়। পণ্য বা সাধারণ কার্য ক্রয়ে প্রযোজ্য নয়।
যে তুলনাটি প্রাসঙ্গিক
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্রয়-নির্দেশিকা ও বিশ্বব্যাংকের ক্রয়-কাঠামোয় “ইকোনমিক অপারেটর গ্রুপ” ধারণা অনুযায়ী একই মালিকানার একাধিক প্রতিষ্ঠানকে প্রতিযোগিতা যাচাইয়ের সময় একক সত্তা ধরা হয়।
ক্রয়-আইন বিশেষজ্ঞ আইনজীবী মামুনুল হক চৌধুরীর মূল্যায়ন: মালিকানা প্রকাশ বাধ্যতামূলক করে বাংলাদেশ প্রথম পদক্ষেপটি নিয়েছে, কিন্তু সেই তথ্য দিয়ে কিছু করার নিয়মটি নেই- “অর্ধেক সংস্কার”।
যা দাঁড়ায়। মালিকানার নামটি রাষ্ট্র নিজেই প্রকাশ করে রেখেছে। কিন্তু নামটি মেলানোর দায়িত্ব কারও ওপর বর্তায়নি- না মূল্যায়ন কমিটির, না অনুমোদনকারী মন্ত্রণালয়ের, না ই-জিপির সফটওয়্যারের। ফলে কোনো নিয়ম না ভেঙেই একই মালিকের দুই প্রতিষ্ঠানের হাতে একটি হাসপাতালের প্রায় গোটা বার্ষিক ক্রয় চলে আসতে পারে।
মূল প্রতিবেদন: ‘এটা ১০০% পেতে পারি আমি’: এক মালিকের দুই প্রতিষ্ঠান, ৮২ শতাংশ কাজ
