সীতাকুণ্ডের সেই জাহাজে মিলল আরও বিষাক্ত গ্যাস


চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে নয় শ্রমিকের মৃত্যুর পর স্ক্র্যাপ জাহাজ ‘এমটি রাসি’র আরও তিনটি ব্যালাস্ট ট্যাংকে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার তদন্ত দল ও বিশেষজ্ঞ কমিটির যৌথ পরিদর্শনের সময় জাহাজটির ট্যাংকগুলোতে ঘন কালো স্লাজ বা তলানির অস্তিত্বও মেলে।

দুর্ঘটনাকবলিত ৩০ হাজার ৭৭০ টন ওজনের জাহাজটিতে থাকা মোট আটটি ব্যালাস্ট ট্যাংকের ওপরের ও নিচের স্তরের পানির নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

পানি নাড়াচাড়া করে নমুনা সংগ্রহের সময় তিনটি ট্যাংকের ভেতরে আট থেকে আঠারো পিপিএম হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি রেকর্ড করা হয়।

তবে পরিদর্শনের সময় জাহাজের খোলা জায়গায় কোনো হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আশরাফ উদ্দিন জানান, মন্ত্রণালয় ও জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটি, বিশেষজ্ঞ দল, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং বিস্ফোরক পরিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটি পরিদর্শন করেছেন।

তিনি আরও জানান, প্রশিক্ষিত কর্মীরা নিরাপত্তা পোশাক পরে দুর্ঘটনাস্থলের ট্যাংকের কাছে গিয়ে গ্যাসের নমুনা পরীক্ষা করে দেখেন সেখানে হাইড্রোজেন সালফাইড শূন্য এবং অক্সিজেনের মাত্রা ২০ দশমিক ৯ শতাংশ।

এই কর্মকর্তার মতে, দুর্ঘটনার চার দিন পেরিয়ে যাওয়ায় জোয়ারের পানিতে দ্রবীভূত হয়ে কিংবা বাতাসের সঙ্গে মিশে গ্যাস সরে যেতে পারে, তাই অক্ষত ট্যাংকগুলোতে বর্তমানে গ্যাস আছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হাইড্রোজেন সালফাইড পানির সঙ্গে মিশ্রিত অবস্থায় রয়েছে।

পানি স্থির থাকলে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা কম থাকলেও পানি ও স্লাজ অপসারণের সময় তা আবার বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে তাঁরা সতর্ক করেছেন।

এই কারণে অক্ষত ট্যাংক কাটার আগে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিদর্শনের সময় জাহাজের বায়ু, পানি ও মাটির নমুনা সংগ্রহ করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েট এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ল্যাবে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার পর স্লাজের প্রকৃতি ও পানিতে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিকের মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক জমির উদ্দিন জানান, জাহাজের খোলা জায়গায় বর্তমানে কোনো গ্যাস নেই, তবে নমুনা সংগ্রহের সময় তিনটি ট্যাংকে হাইড্রোজেন সালফাইড এবং পানিতে স্লাজ বা তলানি পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ শিপব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বিএসবিআরএ তদন্ত দলের প্রধান ক্যাপ্টেন আনাম চৌধুরী জানান, ল্যাব রিপোর্ট পাওয়ার পর ‘প্রান্তিক মেরিন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান ট্যাংকগুলো থেকে পানি ও স্লাজ অপসারণ এবং জাহাজটিকে গ্যাসমুক্ত করার পরিকল্পনা জমা দেবে।

বিশেষজ্ঞ কমিটি ওই পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

প্রসঙ্গগত, গত শুক্রবার সকাল নয়টার দিকে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে ‘এমটি রাসি’ জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংক কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নয় শ্রমিক মারা যান এবং আরও অন্তত ছয়জন আহত হন।