ফলনের আগেই রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের কুমড়া ক্ষেত উপড়ে ফেলল দুর্বৃত্তরা


চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় রাতের আঁধারে এক কৃষকের মিষ্টি ও চাল কুমড়ার পুরো ক্ষেত উপড়ে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।

ফলন আসার ঠিক আগমুহূর্তে ফসলের এমন ক্ষতি হওয়ায় ভুক্তভোগী কৃষকের প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

গত বুধবার দিবাগত রাতে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গাবতল কাতালশাহ পাড়ার উত্তর পাশের পাহাড়ি ঢালু জমিতে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী কৃষক মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ইসলামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কালিপুর মৌজার বাপের বাড়ির বাসিন্দা।

তিনি গাবতল কাতালশাহ পাড়ার উত্তর পাশে প্রায় ৩৬ শতক জমিতে মিষ্টি ও চাল কুমড়ার চাষ করেছিলেন।

কৃষক মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন জানান, প্রায় দেড় মাস আগে তিনি ওই জমিতে কুমড়া চাষ শুরু করেছিলেন।

গাছ বড় হওয়ার পর মাচা তৈরিতে তাঁর প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছিল এবং প্রায় ৬০টি বীজতলা থেকে শতাধিক গাছ সতেজ হয়ে উঠছিল।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিগগিরই গাছগুলোতে ফুল ও ফল আসার কথা ছিল।

কিন্তু বুধবার রাতে অজ্ঞাত কারণে ক্ষেতের সব গাছ মাটি থেকে উপড়ে ফেলা হয় এবং বৃহস্পতিবার সকালে ক্ষেতে গিয়ে তিনি পরম যত্নে গড়া ফসল ধ্বংস হয়ে পড়ে থাকতে দেখেন।

হতাশা প্রকাশ করে কৃষক মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন জানান, মানুষের সঙ্গে মানুষের শত্রুতা থাকতে পারে, কিন্তু অবুঝ ফসলের সঙ্গে এমন নির্মম শত্রুতা মেনে নেওয়া যায় না।

কয়েকদিন আগে ধার করে টাকা এনে ক্ষেতে সার দিয়েছিলেন এবং দেড় মাসের কঠোর পরিশ্রমে ক্ষেতটি গড়ে তুলেছিলেন বলে তিনি জানান।

এক রাতেই দুর্বৃত্তরা সব শেষ করে দেওয়ায় তাঁর প্রায় লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল খালেক ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেত পরিদর্শন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

তিনি জানান, আর মাত্র সপ্তাহ দুয়েক পরেই গাছগুলোতে ফুল ও কুমড়া আসার সময় ছিল, কিন্তু তার আগেই ক্ষেতের গাছগুলো নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুক্তভোগী কৃষকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিটন দাশ এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে যে এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।