চুনতিতে ছয় কোটি টাকা বাজেটে ১৯ দিনের সীরাতুন্নবী মাহফিল


আগামী ২৫ আগস্ট থেকে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতিতে শুরু হচ্ছে ১৯ দিনব্যাপী ৫৬তম আন্তর্জাতিক সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল, যার সম্ভাব্য বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ছয় কোটি টাকা।

এই বৃহৎ ধর্মীয় আয়োজনের সার্বিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে শুক্রবার বিকেল তিনটায় চুনতি সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিলের স্থায়ী কার্যালয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মোতায়াল্লী কমিটির আয়োজনে এই মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি শাহজাদা মাওলানা হাফিজুল ইসলাম মো. আবুল কালাম আজাদ।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন শাহজাদা মাওলানা আব্দুল মালেক ইবনে দিনার নাজাত এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শাহজাদা তৈয়বুল হক বেদার।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ইসমাইল মানিক, অধ্যক্ষ ফারুক হোসাইন, ওলিউদ্দিন, কফিলউদ্দিন লিটু এবং অ্যাডভোকেট মিনহাজুল আবরার।

এ সময় সেখানে কামরুল হুদা, সৈয়দ উদ্দিন ছিদ্দিকী, আবু সাদেক খান, এবাদুর রহমান, সাদুর রহমান এবং শাহ মঞ্জিলের প্রেস সচিব সোহেল তাজসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা জানান, অলিকুল শিরোমণি ও আশেকে রাসুল (সা.) হযরত শাহ মাওলানা হাফেজ আহমদ (রহ.) মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবনাদর্শ ও শিক্ষা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই মাহফিলের প্রবর্তন করেছিলেন।

দীর্ঘ পথপরিক্রমায় চুনতির এই মাহফিল দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে বিশেষ গুরুত্ব ও পরিচিতি লাভ করেছে।

মোতায়াল্লী কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের স্বতঃস্ফূর্ত অনুদানের মাধ্যমে প্রতিবছর এই মাহফিলের বিপুল ব্যয় নির্বাহ করা হয়।

আগামী ১২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই আয়োজন সফল করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মোতায়াল্লী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপ-কমিটির সমন্বয়ক শাহজাদা মাওলানা আব্দুল মালেক ইবনে দিনার নাজাত জানান, প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে হাজারেরও বেশি সভা করা হয়েছে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে মাহফিলের দাওয়াত পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজনের সংবাদ দেশ-বিদেশে তুলে ধরতে তিনি সাংবাদিকদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।

দেশ-বিদেশ থেকে আগত অতিথি, আলেম-ওলামা ও মুসল্লিদের নিরাপত্তায় পুলিশ ও প্রশাসনের পাশাপাশি নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিয়োজিত করা হয়েছে।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম এবং সর্বস্তরের মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় এই আয়োজন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে।