
শুক্রবার দুপুরে আনোয়ারা থানার সামনে একটি ফুলে সাজানো গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। চারপাশে নীরব সহকর্মীরা। একজন বৃদ্ধ কনস্টেবল গাড়িতে উঠছেন- চোখে জল, মুখে হাসি। ৪১ বছর ৮ মাসের একটি জীবন সেই মুহূর্তে যেন থমকে দাঁড়াল।
এটি কনস্টেবল মোহাম্মদ শের আলীর বিদায়ের দৃশ্য।
চার দশক ধরে রাঙামাটি থেকে সীমান্ত পর্যন্ত
১৯৮৫ সালে পটিয়া উপজেলার এক তরুণ পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। সেদিন হয়তো তিনি ভাবেননি, এই পথ কতটা দীর্ঘ হবে। পরের চার দশকে তিনি ছুটে গেছেন রাঙামাটির পাহাড়ে, খাগড়াছড়ির দুর্গম অরণ্যে, ঢাকা মহানগর পুলিশের ব্যস্ত সড়কে, কক্সবাজারের সীমান্তসংলগ্ন অঞ্চলে, লক্ষ্মীপুরের জটিল পরিবেশে। প্রতিটি পোস্টিংয়ে একটাই পরিচয়- সততা আর নিষ্ঠার মানুষ।
শেষ এক বছর কাটিয়েছেন আনোয়ারা থানায়। আর সেখান থেকেই মিলল জীবনের সবচেয়ে দুর্লভ পুরস্কার- সহকর্মীদের অকৃত্রিম ভালোবাসায় মোড়া এক মর্যাদাপূর্ণ বিদায়।
ওসির উদ্যোগে বদলে গেল বিদায়ের সংজ্ঞা
এই বিদায়কে অসাধারণ করে তুলেছেন আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুনায়েত চৌধুরী। তাঁর বিশেষ তত্ত্বাবধানে শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে ফুলে সজ্জিত গাড়িতে শের আলীকে দেওয়া হলো এই সংবর্ধনা।
ওসি জুনায়েত চৌধুরী বলেন, “শের আলী ভাই দীর্ঘ ৪১ বছরেরও বেশি সময় ধরে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে রাষ্ট্রের সেবা করেছেন। কর্মজীবনের শেষ প্রান্তে এসে তিনি যেন বুঝতে পারেন, বিভাগ তাঁর অবদানকে কতটা মূল্যায়ন করে।”
অশ্রুভেজা চোখে চার দশকের স্মৃতি
সহকর্মীদের ভালোবাসায় আবেগে ভেঙে পড়েন শের আলী। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, “দীর্ঘ কর্মজীবনে কত স্মৃতি, কত সহকর্মীকে হারিয়েছি। আজ যে সুস্থ শরীরে, সবার এত ভালোবাসা নিয়ে বিদায় নিতে পারছি- এজন্য মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া। ওসি স্যারের এই আন্তরিক উদ্যোগ এবং সহকর্মীদের এই পরম মমতা আমি আজীবন হৃদয়ে লালন করব।”
দুই ছেলে ও দুই মেয়ের এই গর্বিত পিতা এখন পটিয়ায় পরিবারের সঙ্গে অবসর জীবন কাটাবেন। কিন্তু আনোয়ারা থানার এই বিদায়ের স্মৃতি তাঁর বুকে চিরকাল অম্লান থাকবে।
