মিলাদুন্নবীর মিছিলে রুট নিয়ে বাঁশখালীতে দিনভর উত্তেজনা


চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে বের করা জশনে জুলুসের মিছিলে রুট নিয়ে পুরোনো বিরোধের জেরে কওমি ও সুন্নি অনুসারীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

শনিবার বেলা ১১টার দিকে বাঁশখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ভাদালিয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

পরে বাঁশখালী থানা পুলিশ এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালী পৌরসভার শেষ প্রান্তে সরল ইউনিয়নের সংযোগস্থলে ঈদে মিলাদুন্নবীর মিছিল বের করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সুন্নি অনুসারীরা।

মিছিল শুরু হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে স্থানীয় একটি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অনুসারীরা এতে আপত্তি জানান।

তাঁদের দাবি ছিল, মাদ্রাসার সামনের সড়ক দিয়ে কোনো জুলুস বা মিছিল অতিক্রম করতে দেওয়া হবে না।

এই নিয়ে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পাল্টাপাল্টি স্লোগান শুরু হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সৈয়দ হালিম জানান, জশনে জুলুসের মিছিল ভাদালিয়া বাজার পর্যন্ত পৌঁছালে ভাদালিয়া বড় মাদ্রাসার সামনে দিয়ে যেতে নিষেধ করেন কওমিপন্থী লোকজন।

ওই সময় বড় বড় গাছের গুঁড়ি ফেলে মাদ্রাসার সামনের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

খবর পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সুন্নি অনুসারীরা ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হতে শুরু করলে সংঘর্ষের ভয়ে ভাদালিয়া বাজারের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।

একপর্যায়ে কওমিপন্থীরা ভাদালিয়া বড় মাদ্রাসার সামনে এবং জুলুসে অংশগ্রহণকারীরা ছিদ্দিক আকবর তাহেরীয়া উম্মীদ আলী শাহ্ সুন্নিয়া মাদ্রাসার সামনে অবস্থান নিয়ে মুখোমুখি হন।

সংবাদ পেয়ে বাঁশখালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই পক্ষের মাঝে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করে।

পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বাঁশখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র কামরুল ইসলাম হোসাইনী এবং তিনি উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার জানান, মিলাদুন্নবীর মিছিল বের করাকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষের মধ্যে পুরোনো বিরোধের জেরে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতা ও দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেওয়া হয়নি বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

বাঁশখালী থানার ওসি রবিউল হক জানান, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি এখন শান্ত রয়েছে।

দুই পক্ষের মধ্যে বিদ্যমান মতপার্থক্য নিরসনে রবিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পুলিশের উপস্থিতিতে একটি সুনির্দিষ্ট বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।

ওই বৈঠকে উভয় পক্ষের পাঁচজন করে প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হবে বলে ওসি আশা প্রকাশ করেন।