প্রধানমন্ত্রীর কাছে হতশাগ্রস্ত এক ছাত্রলীগকর্মীর খোলাচিঠি


প্রিয় বিদ্যানন্দিনী মমতাময়ী মা,

পত্রের প্রথমে আমার সালাম নিবেন। আশা করি ভালো আছেন। মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে সবসময় একটি প্রার্থনাই করি জাতির জনকের সোনার বাংলাদেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর করতে এবং আপনার ভিশন ২০৪১ পূরণ করতে আল্লাহ যেন আপনাকে ভালো রাখেন।

প্রিয় নেত্রী,
বাংলাদেশ তথা সারা বাংলার অহংকার আপনি। জানিনা আমার চিঠি আপনার কাছে পৌঁছাবে কিনা? আমি জানি আপনিই গণমানুষের আস্থা, ভালোবাসা, আশা-ভরসার শেষ আশ্রয়স্থল। এই চিঠি পড়ার পর অনেকে আমাকে দূরে ঠেলে দিবে আবার অনেকে কাছে টেনে নিবে। তবুও আমার কিছু করার নেই আজ আমার সকল অব্যক্ত মনের কথা আপনার নিকট তুলে ধরলাম। জানি আপনিই একজন মমতাময়ী মা যিনি তার ছেলে-মেয়েদের ভালবাসা দিয়ে আগলে রাখেন সবসময়। ছাত্রলীগ এমন একটি সংগঠন যে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন বাঙালি জাতির পিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যার জন্ম না হলে আমরা ফিরে পেতাম না বাকস্বাধীনতা, ফিরে পেতাম না স্বাধীন ভূখণ্ড। এই সংগঠনটির একজন ক্ষুদে সমর্থক হিসেবে নিজেকে গর্বিত মনে করি। ব্যক্তিজীবনে কিছু পাই না পাই, পেয়েছি ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত সরকারী আশেকানে আউলিয়া ডিগ্রী কলেজ ছাত্রসংসদের বক্তৃতা ও বিতর্ক বিষয়ক সম্পাদকের পদ ও বঙ্গবন্ধু শিশুকিশোর মেলা বায়েজীদ থানার সহ-সাধারণ সম্পাদক পদ।

প্রিয় নেত্রী,
এবার মূল কথায় আসি। মাননীয় নেত্রী আমরা ছাত্রলীগ করি, এটাই কী আমাদের অপরাধ? কেন আমরা সকল ক্ষেত্রে এত অবহেলিত? বিবিএস, ডিগ্রী, অনার্স, মাস্টার্স পাশ করার পরেও কেন আমরা একটা সরকারি পিয়নের চাকরিও পাই না। মাননীয় নেত্রী, আমরা কি এতটাই অযোগ্য আপনার আমলাদের কাছে সামান্য ঘুষের জন্য? বাইরের রাষ্ট্রে গিয়ে চাকরি করব সেই পথটাও বন্ধ। ঘুষ দেওয়ার পরও যদি চাকরির নিশ্চয়তা থাকত তাহলে যাদের সামান্য ভিটেবাড়ি আছে তারা সেগুলো বিক্রি করে চাকরি পেয়ে মাদক থেকে দূরে থেকে চাকরিতে মনোনিবেশ করত। বেকারত্বের কারণে সামান্য টাকার জন্য অনেক যুবক চুরি, খুন, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মারামারি, রাহাজানিতে ব্যস্ত। কোনো শিক্ষিত যুবক চায় না সে অন্য কারো ক্ষতি করুক। টাকার জন্য পেটের দায়ে মানুষ এসব করে। কিছুদিন আগে আপনি বিশ্বের তৃতীয় সৎ সরকার হিসেবে সম্মান পেয়েছেন।

মাননীয় নেত্রী, আপনি কি চান না আপনার প্রজারা সৎভাবে চলুক সৎভাবে বাঁচুক? কিছুদিন আগেও আমাদের মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সরকারি আমলাদের উদ্দেশ্যে করে বলেছিলেন, “তোমরা ঘুষ খাও তবে সেটা যেন সহনীয় পর্যায়ে হয়” এর মানে দাঁড়ায় আপনার মন্ত্রী, এমপির আমলারা ঘুষ খায় তারপরেও আপনি তাদের বারণ করেননি ঘুষ লেনদেন করা থেকে বিরত থাকতে। কেন মাননীয় নেত্রী, কেন আপনার মন্ত্রীরা আপনার দুর্নাম করছে? আপনি তো কখনো কারো ক্ষতি করেননি। আপনি বিশ্বব্যাংককে বুড়ো আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন আপনার সরকার ঘুষ খায় না। তাহলে কেন এমনটা ঘটল আপনার সাথে? মাননীয় নেত্রী মনের ক্ষোভ থেকে আপনার নিকট এসব তুলে ধরলাম।

আপনিই বলেছিলেন, “আমি যখন শুনি যে আমার ত্যাগী কর্মীরাই দলের ভিতরে অবহেলিত, তখন খুব কষ্ট পাই। কারণ এরা আমার আত্মার সাথে মিশে আছে। ত্যাগী কর্মীরা জীবন দিয়ে হলেও দলের জন্য কাজ করবে কিন্তু বহিরাগতরা তা কখনও করবেনা।”

আমার মত বিভিন্ন কলেজে যাদের পদ আছে তারা আজ লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক এমনকি তাদের নিজস্ব ফ্ল্যাট-বাড়ি, গাড়ী আছে আর আমার কী আছে জানেন, একটি Nokia X2-00 মডেলের মোবাইল সেট, যেটা এসএসসি পরীক্ষার পর আমি টিউশনির টাকা জমিয়ে ২০১৩ সালে কিনেছিলাম। ছোট ভাইয়েরা যখন ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী,বঙ্গবন্ধুর জন্মদিবস ও জাতীয় শিশুদিবস, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা, আপনার, শেখ রেহানা আপা, শেখ কামাল ভাই, শেখ জামাল ভাই, শেখ রাসেল ভাই-এর জন্মবার্ষিকী ও ১০ই জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, ২১ শে ফেব্রুয়ারী জাতীয় শহীদ দিবস, ২৬ শে মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালনের জন্য টাকার জন্য আসে, তখন লজ্জায় পড়তে হয় আমার।

প্রশাসন থেকে শুরু করে সরকারের সবক্ষেত্রে জামায়াত-বিএনপির লোক নিয়োগ পায় তাহলে আমরা কেন বেকার ঘোরাফেরা করি? আমাদের ভাগ্যে কী কোনোকিছু নেই মাননীয় নেত্রী? তাহলে আমরা কার চাকরি করছি? কেন বড়ভাইয়েরা আমাদের টিস্যু পেপারের মত ব্যবহার করে ডাস্টবিনে ফেলে দেয়? মাননীয় নেত্রী, আমরা তৃণমূলরা যদি হারিয়ে যায় তাহলে কারা এই দেশ পাহারা দিবে? কারা দেশের সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে রাজপথে লড়ে যাবে, কারা আপনার সফলতার কাহিনী সাধারণ মানুষকে শোনাবে, কারা ভর্তি-বাণিজ্য ঠেকাবে, কারা আপনার সফলতায় আনন্দ মিছিল করবে?

প্রিয় নেত্রী, এই বিষয়টি আপনার বিবেচনায় দিলাম। ক্ষুদ্র মুখে অনেক বড় কথা বলে ফেললাম। সেজন্য আপনার নিকট ক্ষমাপ্রার্থী।

ইতি,

আপনার একজন ক্ষুদ্র নিবেদিতপ্রাণকর্মী

ফরহাদ হাসান সয়ন
ওমরগণি এম.ই.এস বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ
চট্টগ্রাম।