নুসরাত হত্যা: বিচারিক আদালতে ১৬ জনের ফাঁসি, হাইকোর্টে টিকল দুজনের


ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট।

সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় দেন।

মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর আলোচিত এই মামলায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছিলেন।

ওই রায়ে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে ডেকে নিয়ে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন।

এ ঘটনায় মামলা হলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মামলা তুলে না নেওয়ায় ওই বছরের ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতের হাত–পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

পরে ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়।

অগ্নিসন্ত্রাসের এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন, যা পরে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সের জন্য রায়সহ নথিপত্র ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়।

এটি ১৪০/১৯ ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নম্বরভুক্ত হয়।

চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক তৈরির পর আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয়াদি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনতে গত ১০ জুন হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি।

এই বেঞ্চ গত ১৪ জুন কার্যক্রম শুরু করেন।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় গত ২৮ জুলাই শুনানি শুরু হয়ে ২০ আগস্ট শেষ হয়।

সেদিন রায়ের জন্য ২৪ আগস্ট তারিখ ধার্য করেছিলেন হাইকোর্ট এবং সে অনুযায়ী সোমবার রায় ঘোষণা করা হলো।