মানবিক সহায়তায় এভারকেয়ার থেকে মুক্ত যুবদল নেতার মরদেহ


বিপুল অঙ্কের বকেয়া বিলের কারণে আটকে থাকা যুবদল নেতা মো. মিজানুর রহমানের মরদেহ অবশেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সাধারণ মানুষের আর্থিক সহায়তা, এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিশেষ ছাড় এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যের হস্তক্ষেপে মঙ্গলবার রাতে মরদেহটি বুঝে পায় তার পরিবার।

চট্টগ্রামের এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে ৩৫ বছর বয়সী এই যুবকের মৃত্যু হয়।

তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের খামারিপাড়ার বাসিন্দা হাবিবুর রহমানের ছেলে।

মো. মিজানুর রহমান রাঙ্গুনিয়া কলেজ ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত হোসনাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

নিহতের ভাই মো. এনাম জানান, টানা নয় মাস ব্লাড ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন মিজানুর রহমান।

কেমোথেরাপির তৃতীয় সাইকেল শেষ হওয়ার পর মঙ্গলবার ভোরে চতুর্থ সাইকেল চলাকালে তিনি মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।

চিকিৎসার ব্যয়ভার মেটাতে গিয়ে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়ে। পরিবার সূত্র জানায়, চিকিৎসাকালীন মোট বিল হয়েছিল প্রায় ৩১ লাখ টাকা।

এর মধ্যে ১১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হলেও ১৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা বকেয়া থাকায় মঙ্গলবার সকালে মরদেহ হস্তান্তর আটকে যায়।

এ অবস্থায় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইমাম হোসেন চৌধুরীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অর্থ সহায়তার আবেদন জানান।

ইমাম হোসেন চৌধুরী জানান, আহ্বানে সাড়া দিয়ে যেটুকু অর্থ সংগৃহীত হয়, তা নিয়ে তারা এভারকেয়ার হাসপাতালে যান এবং কর্তৃপক্ষের কাছে পরিবারের আর্থিক সংকটের বিষয়টি তুলে ধরেন।

এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী ও তার সহধর্মিণী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে মরদেহ হস্তান্তরের বিষয়ে সহযোগিতা করেন।

ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বকেয়া বিলে বিশেষ ছাড় দেয় এবং সংগৃহীত অর্থের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়।

এভারকেয়ার হাসপাতালে মরদেহ আনতে ইমাম হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে লালানগর যুবদলের আহ্বায়ক এম এইচ সুমনসহ লালানগর ও হোসনাবাদ ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

হোসনাবাদ ইউনিয়ন থেকে যাওয়া নেতৃবৃন্দ জানান, সংগৃহীত অর্থ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ছাড়ের বিস্তারিত হিসাব বুধবার স্থানীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ১১টার দিকে মিজানের নিজ গ্রামের মসজিদ মাঠে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

মিজানের মৃত্যুতে শোকের পাশাপাশি দীর্ঘ চিকিৎসার কারণে পরিবারে চরম আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। তাই স্বজনরা সমাজের বিত্তবানদের কাছে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।