ফটিকছড়িতে দিনেদুপুরে অর্ধশতাধিক গাছ লুট, সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে রক্ষা


সরকার পরিবর্তনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে এবং মালিকের সাময়িক অনুপস্থিতিতে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে দিনেদুপুরে অন্তত অর্ধশতাধিক গাছ কেটে লুট করার ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলার খিরাম ইউনিয়নের মগকাটা এলাকায় ব্যবসায়ী মো. হাসান আলীর মালিকানাধীন ছয় একরের একটি বাগানে এই লুটের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালের দিকে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ওই বাগানে ঢুকে গাছ কাটতে শুরু করে।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা বাধা দিলে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরে স্থানীয় সর্তা বনবিভাগের কর্মকর্তাদের বিষয়টি জানানো হলেও তারা গাছ কাটা বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

অবশেষে খিরাম আর্মি ক্যাম্পের সেনাসদস্যরা এগিয়ে এলে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

বাগানের প্রকৃত মালিক নানুপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মো. হাসান আলী জানান, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন করতে তিনি ভোরেই চট্টগ্রাম নগরের উদ্দেশে রওনা দেন।

তার এই অনুপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় মহসিন, হারুন ও করিমের নেতৃত্বে একটি দল বাগানের অন্তত পাঁচ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের গাছ কেটে লুট করে।

তিনি আরও জানান, জায়গাটি বন্দোবস্ত পেতে তার আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তরা এর আগেও বারবার হুমকি দিয়ে গাছ কাটা ও বাগান দখলের চেষ্টা করেছে।

এলাকাবাসী জানান, গত ৩১ জুলাই ব্যবসায়ী মো. হাসান আলী নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পমূলে বাগানটি দেখভালের জন্য তিন লাখ টাকায় স্থানীয় মো. আহম্মদ ছাফাকে দায়িত্ব দেন।

গত ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে এই বাগান দখলে নিতে মহসিন, হারুন ও করিমের নেতৃত্বে দুষ্কৃতকারীরা হুমকি দিয়ে আসছিল।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, অভিযুক্ত মহসিন পতিত আওয়ামী লীগের আমলে এসব অপকর্মে জড়িত ছিলেন এবং হারুন ও করিম স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

বাগান তত্ত্বাবধানকারী মো. আহম্মদ ছাফা জানান, তার তত্ত্বাবধানে থাকা বাগানটিতে কর্মচারীদের নানা কাজে বাধা দেওয়া ও মারধর করার চেষ্টা করত এই চক্রটি।

ইতিমধ্যে গত দুই মাসে তারা অন্তত তিন লক্ষাধিক টাকার গাছ কেটে নিয়ে গেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বুধবারের গাছ কাটার ঘটনায় তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও প্রতিকার দাবি করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সর্তা বনবিট কর্মকর্তা মো. রবিউল হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এছাড়া অভিযুক্ত মো. মহসিন, হারুন ও করিমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল আলম খান জানান, কেউ থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেনি।

তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।