
যানজট নিরসন, অবৈধ দখল রোধ, মাদক নিয়ন্ত্রণসহ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ২১টি প্রস্তাবনা বাস্তবায়নে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে দশটায় চকরিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই সভায় সভাপতিত্ব করেন চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার।
সভায় উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিউল আলম, চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আবদুল আজিজ এবং কৃষি অফিসার শাহনাজ ফেরদৌসী।
এছাড়া চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া সভায় বক্তব্য রাখেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন মাতামুহুরী উপজেলা বিএনপির সভাপতি জামিল ইব্রাহিম চৌধুরী, চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. মোবারক আলী এবং জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েত উল্লাহ।
পাশাপাশি মাতামুহুরী বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়াইবুল ইসলাম সবুজ, বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছালেকুজ্জামান এবং চকরিয়া পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান মাহমুদ সভায় অংশ নেন।
ডুলাহাজারা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন সিপু, পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ এবং কাকারা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফিও এই সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় চকরিয়া পৌরশহরের যানজট নিরসন এবং মাদক, অনলাইন জুয়া, ইভটিজিং, চিংড়ি ঘেরের চাঁদাবাজি, বনভূমি দখল, পাহাড় কর্তন ও মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণ, ভাসমান হকার উচ্ছেদ, মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল বন্ধ এবং উপকূলীয় এলাকায় ডাকাতি ও সন্ত্রাস দমনের বিষয়গুলো বিশেষভাবে উঠে আসে।
একইসঙ্গে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট দূর করা, জন্মনিবন্ধন সংশোধনে হয়রানি কমানো, সুষ্ঠু সার ব্যবস্থাপনা ও বাজার-সড়কে অবৈধ টোল আদায় বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।
পরিবেশ সংরক্ষণ, প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপ ও ‘নতুন কুঁড়ি’ দ্বিতীয় আসরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান তদারকির বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
এছাড়া ঢাকা-কক্সবাজার রুটের বাসে চকরিয়া থেকে যাত্রী না নেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখা, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ এবং হোটেল-মোটেলে অনৈতিক কার্যক্রম বন্ধের বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
পরিশেষে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, চুরি-ছিনতাই, বাল্যবিবাহ ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলে একমত পোষণ করেন।
