
খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে গভীর রাতে একা থাকা নিকা ত্রিপুরা নামের এক গৃহবধূকে হত্যার পর ঘরের মালামাল লুটের ঘটনা ঘটেছে।
এটি নিছক চুরি নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নের নরেন্দ্র কারবারি পাড়ায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত নিকা ত্রিপুরার বয়স ৩০ বছর।
স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় নিকা ত্রিপুরা বাড়িতে একাই ছিলেন। গভীর রাতে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা তার বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে হত্যা করে।
পরে ওই ঘর থেকে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে।
জানা গেছে, নিহত নিকা ত্রিপুরার স্বামী ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে সাধারণ আনসার সদস্য হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। স্বামী কর্মস্থলে থাকার কারণে ওই রাতে বাড়িতে একা ছিলেন এই গৃহবধূ।
হত্যার আগে ওই নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকতে পারেন বলেও প্রাথমিকভাবে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ছাড়া এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
বাড়িতে একা থাকা একজন নারী কীভাবে গভীর রাতে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হলেন এবং হামলাকারীরা কীভাবে সেখানে প্রবেশ করল, তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।
চুরির উদ্দেশ্যেই হামলা হয়েছিল, নাকি হত্যার ঘটনা আড়াল করতে চুরির নাটক সাজানো হয়েছে— এসব বিষয় এখন তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের চিহ্নিত করার দাবি জানিয়েছেন।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেই নিকা ত্রিপুরার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মহালছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মির্জা জহিরুদ্দিনকে মুঠো ফোনে বার বার ফোন দিলেও তিনি ফোন ধরেননি।
