দুই বউয়ের জ্বালায় সেতুতে জালালউদ্দিন, লাফের আগেই ধরল পুলিশ!


দুই বউ থাকা মানুষের জীবন কতটা জটিল হতে পারে, জালালউদ্দিন সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেলেন শনিবার রাতে। তবে সমস্যাটা দুই বউ নয়, সমস্যাটা সোনা। দুই বউয়ের সোনাদানা বন্ধক রেখেছিলেন ব্যবসার কাজে। এক বউয়েরটা কোনোমতে ছাড়িয়ে দিয়ে অর্ধেক যুদ্ধ জেতা গেছে। কিন্তু দ্বিতীয় বউয়ের সোনা আর ফেরত দেওয়া হয়নি। ঘরে শুরু হলো মহাযুদ্ধ।

সেই মহাযুদ্ধ সামলাতে না পেরে শনিবার সন্ধ্যায় মুখ কালো করে ঘর ছাড়লেন কর্ণফুলীর শিকলবাহার দুধ ব্যবসায়ী জালালউদ্দিন (৩৫)। গন্তব্য ঠিক করলেন শাহ আমানত সেতু।

মাকে ফোন, ‘শেষ বিদায়’- তারপর পুলিশের এন্ট্রি

সেতুতে গিয়ে জালাল আবেগে ভাসলেন। গর্ভধারিণী মাকে ফোন দিলেন শেষ বিদায় জানাতে। আর সেই ফোনে বললেন, তিনি নাকি ইতোমধ্যেই সেতু থেকে লাফিয়ে পড়েছেন। এই খবরে মা তো কান্নায় ভেঙে পড়লেন। হইচই শুরু হলো চারদিকে। খবর গেল কর্ণফুলী থানার ওসি নূর আহমদের কাছে।

ওসি সাহেব কালবিলম্ব না করে শিকলবাহা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই বিল্লাল ও এএসআই নুরুল আমিনকে পাঠালেন সেতুতে। পুলিশ যখন পৌঁছাল, জালালউদ্দিন তখনো সেতুতেই। লাফ দেওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতিতে ছিলেন, নাকি শুধু নদীর গভীরতা মাপছিলেন- সেটা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পুলিশ তাঁকে বেশি ভাবার সুযোগ না দিয়েই ছোঁ মেরে সেতু থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এলেন।

রাত ১০টায় যে সংকট সেতু থেকে মিটমাট হওয়ার কথা ছিল, সেটা এখন থানায়।

কর্ণফুলী থানার ওসি নূর আহমদ একটু মুচকি হেসেই জানালেন, যুবককে উদ্ধার করে পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। দুই বউয়ের সোনার এই জটিল সমীকরণ কীভাবে মেলানো যায়, সেই চেষ্টা চলছে। মিটমাট না হলে পুলিশ নিজস্ব পদ্ধতিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে।