
একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পরিবারের দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, শিক্ষকের শ্রম আর নিজের স্বপ্নপূরণের গল্প। সেই সাফল্যকে স্বীকৃতি দিতে বাঁশখালীর জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিয়েছে মাস্টার নজির আহমদ ট্রাস্ট।
২০২৬ সালের এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় বাঁশখালীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া ১৬১ শিক্ষার্থীকে নিয়ে শনিবার মাস্টার নজির আহমদ কলেজ মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। বাছাই করা ১৫৮ জন শিক্ষার্থীর হাতে সেদিন তুলে দেওয়া হয় দুই হাজার টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে না পারা তিন শিক্ষার্থীও প্রাইজবন্ড পাবেন; তাঁরা যেকোনো সময় ট্রাস্ট অফিসে গিয়ে তা সংগ্রহ করতে পারবেন।
পুরস্কারের পাশাপাশি সংবর্ধিত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দেওয়া হয় মাস্টার নজির আহমদ কলেজের একটি ম্যাগাজিন। শিক্ষার্থীদের সাফল্যের আনন্দ ভাগ করে নিতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ৩২৬ জন অভিভাবক। তাঁদের অনেকের জন্য সন্তানের হাতে পুরস্কার তুলে নেওয়ার মুহূর্তটি ছিল গর্বের।
অনুষ্ঠানে অংশ নেন বাঁশখালীর ১৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও প্রতিনিধি। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অভিভাবক ও অতিথিদের জন্য ছিল আন্তরিক আপ্যায়নের ব্যবস্থা। মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে তাঁদের আপ্যায়ন করা হয় এবং আগত প্রতিষ্ঠানপ্রধানদেরও সম্মান জানানো হয়।
মাস্টার নজির আহমদ কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবদুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মাস্টার নজির আহমদ ডিগ্রি কলেজের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, মাস্টার নজির আহমদ ট্রাস্টের সদস্য ও পুঁইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেকুর রহমান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. নুরুল ইসলাম, পুঁইছড়ি ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোশারফ হোছাইন, চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম, হাজিগাঁও বরুমছড়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক আবদুল খালেক এবং চুনতি হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক মো. ওয়ালী উল্লাহ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের প্রভাষক মুফিদুল আলম। শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য দেন জীববিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক তুষার কান্তি ভারতী।
সংবর্ধিত শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন বাঁশখালী হামিদিয়া রহিমা ফাজিল মাদ্রাসার তানিয়া মাশকুরা, নাটমুড়া পুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের তাছকিয়াতুল জান্নাত, চাম্বল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাঈদাতুন নুর ইশমা, বাঁশখালী সেন্ট্রাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মো. রুকন এবং বাঁশখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের আনাস বিন ফারুক।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. আবদুল কাদের বলেন, ভালো ছাত্র হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভালো মানুষ হিসেবেও নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যতে যেন পরিবার, সমাজ ও দেশ তাঁদের নিয়ে গর্ব করতে পারে, সেভাবেই এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু পরীক্ষার খাতায় ভালো ফলাফল করলেই সাফল্য পূর্ণতা পায় না। মানুষের জন্য নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার মধ্যেই জীবনের প্রকৃত সার্থকতা। মরহুম আলহাজ্ব মাস্টার নজির আহমদ ও তাঁর পরিবারের মানবিকতা ও সমাজসেবার দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে বাছাই করা ১৫৮ শিক্ষার্থীর হাতে দুই হাজার টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড তুলে দেওয়া হয়। তবে সংবর্ধনার জন্য নির্বাচিত ১৬১ শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন সেদিন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না। তাঁদের প্রাইজবন্ড ট্রাস্ট অফিসে রাখা থাকবে; সুবিধাজনক সময়ে তাঁরা সেখানে গিয়ে তা সংগ্রহ করতে পারবেন।
পুরস্কার হাতে শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে আনন্দের ঝিলিক। পাশে থাকা অভিভাবকদের মুখেও ছিল সন্তানের সাফল্যের তৃপ্তি। কারও কাছে এটি ছিল পরীক্ষার ফলের স্বীকৃতি, কারও কাছে ভবিষ্যতের পথে আরও এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।
ট্রাস্টের সদস্য সচিব মুজিবুর রহমান সিআইপি জানান, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করার এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
মেধার স্বীকৃতি, শিক্ষার প্রতি উৎসাহ এবং মানবিক মূল্যবোধ- এই তিনটি বার্তাকে সামনে রেখেই আয়োজনটি করা হয়। বাঁশখালীর মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদ্যাপনের পাশাপাশি তাঁদের ভবিষ্যৎ স্বপ্নের পথে উৎসাহ জোগানোর একটি উপলক্ষ হয়ে ওঠে মাস্টার নজির আহমদ ট্রাস্টের এই সংবর্ধনা।
