
মেয়েকে সম্পত্তি লিখে দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে কক্সবাজারের চকরিয়ায় আরফা খাতুন (৭৫) নামের এক বৃদ্ধাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ৯ মাস পর ছেলে ও পুত্রবধূসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।
হত্যার পর বিষয়টিকে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়ে তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন করা হয়েছিল। তবে পিবিআইয়ের তদন্তে সম্প্রতি এই খুনের রহস্য উন্মোচিত হয়েছে এবং তিন আসামিকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এই তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়। মামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) তাদের বিরুদ্ধে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নিহতের ছোট ছেলে আবদুল আজিজ (৩৫), আরেক ছেলে শামসুল আলমের স্ত্রী নাছরিন সোলতানা মুন্না (২৮) এবং তাদের বাসার গৃহকর্মী জয়নাব বেগম (২২)।
গৃহকর্মী জয়নাব বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের হারগাছা এলাকার বাসিন্দা।
মামলার অপর আসামি আবদুল আজিজের স্ত্রী আকলিমা জান্নাত (২৬) বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১০ নভেম্বর বিকেল ৩টা থেকে পরদিন ১১ নভেম্বর সকাল ৬টার মধ্যে চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ আবাসিক এলাকার হাফেজ টাওয়ার নামক ভবনের দ্বিতীয় তলায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
বৃদ্ধা আরফা খাতুন নিজের ৬৫ কড়া ভূসম্পত্তি মেয়ে লায়লা বেগমের নামে এককভাবে হেবা করে দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হন আসামিরা।
এর জেরে কৌশলে ওই বাসায় বেড়াতে এনে বৃদ্ধাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।
এরপর আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের সওদাগরঘোনা এলাকায় নিহতের গ্রামের বাড়িতে বিনা ময়নাতদন্তে মরদেহ দাফন করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়া হয়।
তবে ঘটনার বিষয়ে সন্দেহ হওয়ায় নিহতের আরেক মেয়ে জান্নাত আরা বেগমের ছেলে মো. পারভেজ উদ্দিন (বাবু) বাদী হয়ে গত ১৬ মার্চ চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পারভেজ উদ্দিন চকরিয়া পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পালাকাটা হাশেম মাস্টার পাড়ার রশিদ আহমদের ছেলে।
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট ওমর ফারুক জানান, আদালতের নির্দেশে চকরিয়া থানা পুলিশ প্রথমে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে জানায় যে, ওই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে থানায় কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি।
এরপর গত ২৩ জুলাই আদালতের বিচারক মুহাম্মদ ফারহান সাদিক পুনরায় মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) কক্সবাজারের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন।
পাশাপাশি আসামিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে গ্রেপ্তারের ক্ষমতাও দেন আদালত।
কক্সবাজার পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) রাজীব পোদ্দার জানান, তদন্তে চার আসামির সম্পৃক্ততার সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর ১ সেপ্টেম্বর তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ সময় নিহতের মেয়ে জান্নাত আরা বেগম এবং নিহতের ভাতিজার স্ত্রী হামিদা বেগম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন।
এরপর বিচারক মুহাম্মদ ফারহান সাদিক আসামিদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এদিকে, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চকরিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে এসে মামলার বাদী পারভেজ উদ্দিন অভিযোগ করেন যে, পলাতক আসামি আকলিমা জান্নাতসহ অন্যরা মামলা তুলে নিতে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছেন।
আসামিদের নিকটাত্মীয় চকরিয়া পৌরসভার একজন সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে তাকে গুম ও হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
