
দেশের চলমান সংকট সমাধানে বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা না করলে বর্তমান সরকারের জন্য পাঁচ বছরও অপেক্ষা করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
একই সঙ্গে দাবি আদায় না হলে জনগণের বিকল্প শক্তি হিসেবে রাজপথে থাকার ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে নাহিদ ইসলাম জানান, সরকার সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হলে তাদের তা স্বীকার করা উচিত।
দেশ পরিচালনায় সরকারের সঠিক পরিকল্পনা নেই উল্লেখ করে তিনি বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। বিরোধী দলের সমর্থন ছাড়া একা দেশ চালানো সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সরকার জনগণকে সমাধান দিতে না পারায় তারা এখন বিকল্প খুঁজছে উল্লেখ করে এই নেতা জানান, বাংলাদেশের জনগণ দেখেছে বিকল্প শক্তি কারা।
দেশে নতুন করে কোনো স্বৈরাচার তৈরি হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তারেক রহমানের সমালোচনা করে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী সংসদকে কার্যকর করেননি বলেই আজ আন্দোলন রাজপথে গড়িয়েছে।
গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হলে আলোচনার সুযোগ ছিল। কিন্তু সেই রায় না মেনে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের কোনো বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে না অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম জানান, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাজ করতে না দিয়ে প্রহসন করা হচ্ছে।
দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো সংসদকেও কুক্ষিগত করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি জানান, সালাউদ্দিন আহমেদ একাই সংসদ চালাচ্ছেন।
সালাউদ্দিন আহমেদ যেহেতু সব এমপির দায়িত্ব নিতে পেরেছেন, তাই তাঁরই বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছেন এবং মাঝেমধ্যে ভুল বলছেন উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম জানান, সালাউদ্দিন আহমেদকে কথা বলতে দেওয়া হলেও জনগণ তা ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বর্তমান অধিবেশনে সংসদে থাকলেও পরের অধিবেশনে বিরোধী দল যোগ দেবে কি না, তা নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন।
সংসদ ও রাষ্ট্র একাকার হয়ে যাওয়ার আগে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার উপায় খোঁজার তাগিদ দেন এই বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ।
