
সালমা আক্তার প্রতিদিন ভোরে এই সড়ক দিয়ে হেঁটে কারখানায় যান। এই গার্মেন্টস কর্মীর পায়ে প্রতিদিন লাগে কাদা, কখনো ভেজে জামাকাপড়। গর্তে জমা নোংরা পানি ছিটকে পড়ে গায়ে। রিকশা-অটোরিকশা উল্টে দুর্ঘটনার খবর এখন নিত্যনৈমিত্তিক।
তিনি বলেন, “যারা সরকারের ভালো কাজে বাধা দিয়ে আমাদের এই কষ্টের মধ্যে ফেলেছে, প্রশাসনের উচিত তাদের ডেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।”
চট্টগ্রামের আনোয়ারার শাহ মোহছেন আউলিয়া সড়কের মহাল খান বাজার থেকে বন্দর সেন্টার পর্যন্ত অংশটি এখন যেন এক ধ্বংসস্তূপ। বড় বড় গর্ত, তার বুকে জমে থাকা কাদাপানি। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো ছোটখাটো ডোবায় পরিণত হয়। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করেন হাজারো মানুষ।
কিন্তু এই দুর্ভোগের পেছনে সরকারি উদাসীনতা নেই। আছে ভিন্ন এক গল্প।
সংস্কার করতে এসেছিল সওজ, ফিরে গেছে বাধা পেয়ে
কিছুদিন আগে দক্ষিণ চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের উদ্যোগে সড়কটিতে পানি নিষ্কাশনের পাইপ বসানোর কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রেনেসাঁস এন্টারপ্রাইজ। উদ্দেশ্য ছিল স্থায়ী জলাবদ্ধতা দূর করা। কিন্তু কাজ শেষ হয়নি। স্থানীয় কিছু বাসিন্দা তীব্র বাধা দেন। পাইপ না বসিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হয় ঠিকাদার।
সওজের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল নোমান পারভেজ বলেন, “এই সড়কের স্থায়ী উন্নয়নের জন্য একটি বড় প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন আছে। সেটি আসার আগে সাময়িকভাবে পাইপ বসিয়ে মানুষের কষ্ট কমাতে চেয়েছিলাম। কিন্তু স্থানীয়রা বাধা দেওয়ায় এখন বৃষ্টি হলেই পানি জমছে।”
তিনি জানান, শিগগির গর্তগুলোতে ইট বিছিয়ে চলাচলের উপযোগী করার চেষ্টা করা হবে।
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়- কারা বাধা দিয়েছেন এবং কেন? স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ জাবেদ বলেন, “সওজের লোকজন যখন পাইপ বসাতে আসলো, আমাদেরই কিছু মানুষ নিজেদের ড্রেনের জায়গা ছাড়বে না বলে ঝামেলা করলো। কয়েকজনের স্বার্থের জন্য হাজার হাজার মানুষের এই ভোগান্তি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”
জাবেদের দোকানে কাস্টমার আসা কমে গেছে। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তা নদী হয়ে যায় বলে জানান তিনি।
সিএনজি চালক আব্দুল মালেক বলেন, “এই সড়কে গাড়ি চালানো মানেই কয়েকদিন পর পর গ্যারেজে যাওয়া। পার্টস ভাঙে, চাকা আটকায়।” তাঁর দাবি, ইউএনও নিজে এসে জট ছুটিয়ে কাজ ধরিয়ে দিন।
ইউএনও নোটে রেখেছেন, এলজিইডি বলছে আমাদের সড়ক নয়
বিষয়টি জানানো হলে আনোয়ারার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিন উদ্দীন জানান, সমস্যাটি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন এবং বিষয়টি নিজের নোটে রেখেছেন। দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. জাহেদুল আলম চৌধুরী জানিয়ে দিয়েছেন, সড়কটি তাঁদের আওতাভুক্ত নয়- এটি সওজের মালিকানাধীন।
দায়িত্ব তাহলে সওজের। সওজ উদ্যোগ নিয়েছিল। বাধায় পড়ে থেমে গেছে। আর এর মাঝখানে পড়ে প্রতিদিন কাদায় হাঁটছেন সালমা আক্তারের মতো হাজারো মানুষ।
স্থানীয়দের দাবি, বাধা দেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রশাসন ব্যবস্থা নিক এবং সওজের সংস্কারকাজ অবিলম্বে শুরু হোক। ইউএনওর নোটটি কখন কাজে পরিণত হবে- সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন সড়কের দুই পাশের মানুষ।
