চকরিয়ায় ফুটপাত দখল করে ভাসমান দোকানে চাঁদাবাজির অভিযোগ


কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরশহরে ফুটপাত দখল করে ভাসমান দোকান ও অবৈধ পরিবহন কাউন্টার বসিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে একটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

এর ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারীরা।

বাণিজ্যিক এলাকা চিরিঙ্গা সোসাইটিতে মহাসড়কের দুই পাশ দখল হওয়ায় পথচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছেন।

অবৈধ দোকান, সিএনজি অটোরিকশা ও টমটম স্টেশনের কারণে চিরিঙ্গা সোসাইটি এলাকা সংকুচিত হয়ে দিনের বেলায় তীব্র যানজট লেগে থাকছে।

এতে জরুরি কাজে চলাচলকারী সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী এবং সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে আসা রোগীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। সড়ক সংকুচিত হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনাও ঘটছে।

পৌর বাস টার্মিনাল থেকে থানার রাস্তার মাথা পর্যন্ত এক কিলোমিটার মহাসড়কের দুই পাশে অন্তত তিন শতাধিক ভাসমান দোকান বসেছে।

এর মধ্যে রয়েছে চিরিঙ্গা পুরাতন বাসস্ট্যান্ড (জনতা মার্কেট রোড), সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় রোড (জনতা শপিং কমপ্লেক্স মোড়), পুরাতন এসআলম কাউন্টার, চকরিয়া নিউ মার্কেট রোড, সোসাইটি কাঁচাবাজার রোড এবং চকরিয়া সরকারি হাসপাতাল সড়ক।

সোসাইটি কাঁচাবাজার সড়কে পণ্যবাহী ট্রাক থেকে মালামাল ওঠানামার কারণে চকরিয়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চকরিয়া আবাসিক মহিলা কলেজ এবং চকরিয়া কোরক বিদ্যাপীঠের হাজারো শিক্ষার্থীর চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

অন্যদিকে ওয়াপদা সড়কের ওপর ভাসমান দোকানের কারণে অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা পিডিবি বিভাগের কর্মীদের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া ড্রেনের ওপর দোকান বসিয়ে বর্জ্য ফেলায় পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন (নিসচা) কক্সবাজার জেলা কমিটির সভাপতি ও সাংবাদিক জসিম উদ্দিন কিশোর জানান, সড়কের ফুটপাত ও একাংশ দখল করে বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান বসানো হয়েছে। এতে যানবাহন ও পথচারী চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

চকরিয়া উপজেলা পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান মাহমুদ অভিযোগ করেন, ফুটপাত দখলের সঙ্গে ফল ব্যবসায়ী সমিতির কিছু নেতা, মার্কেট মালিক এবং সামনের অংশের দোকানিরা জড়িত। পৌরসভা থেকে ইজারা দেওয়া বন্ধ থাকলেও তারা অবৈধ বাণিজ্য অব্যাহত রেখেছে।

ফুটপাতের একাধিক দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, দোকান বসাতে তাদের প্রতিদিন চাঁদা দিতে হয়, যা ফল সমিতির নেতাদের লোকজন আদায় করে। সরকারি দল সমর্থিত কিছু নেতা এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বলে তারা দাবি করেন।

চকরিয়া পৌরসভার বাজার শাখার অফিসার মো. জানে আলম জানান, পৌরসভা থেকে ফুটপাত ইজারা দেওয়া বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। সমিতির নাম ভাঙিয়ে কেউ কেউ অবৈধভাবে দোকান বসাচ্ছে, যা উচ্ছেদে পৌরসভা একাধিকবার অভিযান চালিয়েছে।

চকরিয়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানান, ফুটপাত জবরদখল উচ্ছেদ ও যানজট নিরসনে গত মাসে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিগগিরই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জেল-জরিমানা করা হবে বলে তিনি জানান।