
কক্সবাজারের চকরিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রাতের আঁধারে মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে একটি চক্র। এর ফলে চরম ভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছে নদীতীরবর্তী এলাকা, বসতবাড়ি ও বেড়িবাঁধ।
এই ধ্বংসযজ্ঞ ঠেকাতে অবশেষে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
চকরিয়া উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের মরংঘোনা রবি টাওয়ার সংলগ্ন মাতামুহুরী নদীর পয়েন্টে এই অভিযান চালানো হয়।
এ সময় নদী থেকে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত দুটি সেলো মেশিন ও বিপুল পরিমাণ পাইপ জব্দ করে ধ্বংস করা হয়।
আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. শফিউল আলম এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন। তিনি নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলারও অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন।
অভিযানে ইউনিয়ন (ভূমি) কর্মকর্তা মো. আবুল মনসুর, মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি পুলিশের দল, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ উপায়ে এই বালু লুট করে আসছে। দিনের বেলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি থাকায় তারা রাতের বেলা সেলো মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে।
এর ফলে এলাকার কৃষিজমি থেকে শুরু করে বসতবাড়ি ও রক্ষা বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিউল আলম জানান, কোনাখালীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদী ও আশপাশের পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।
পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং কৃষিজমির ক্ষতি সাধন করে এমন বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
