
কক্সবাজারের চকরিয়ায় চুরির উদ্দেশ্যে বাসায় ঢুকে এক পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে ধর্ষণের মামলায় পারভেজ ওরফে আবুল কালাম নামের এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে তাঁকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরও ১০ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজারের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আবু হানিফ এই রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) ইফতেখার মাহমুদ আদালতের এই রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই রাতে চকরিয়া পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীনগর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
মামলার বাদী চকরিয়া থানার সাবেক ওই পুলিশ কনস্টেবল ঘটনার সময় তাঁর নতুন কর্মস্থল কক্সবাজারে ডিউটিতে ছিলেন। তবে চকরিয়া পৌর এলাকায় আগের ভাড়া বাসায় তিনি স্ত্রী ও সন্তানকে রেখে গিয়েছিলেন।
অভিযোগে বলা হয়, গভীর রাতে চুরির উদ্দেশ্যে দরজার সিটকিনি কেটে ভেতরে ঢোকেন আসামি পারভেজ ওরফে আবুল কালাম।
এ সময় পুলিশ সদস্যের স্ত্রীকে একা পেয়ে মালামাল লুটের পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র উঁচিয়ে মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে পালিয়ে যান তিনি।
ঘটনার পরদিন ভিকটিমের স্বামী বাদী হয়ে চকরিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে একটি চুরির মামলায় পারভেজ ওরফে আবুল কালামকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তদন্তে ধর্ষণের সঙ্গে তাঁর সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনা করে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এই রায় দেন।
আদালতের এই রায়ে বাদীপক্ষ এবং চকরিয়া উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
