সাতকানিয়ায় জোড়া খুন ও কিশোর গ্যাং, আতঙ্কে স্থানীয়রা


চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মাত্র ১১ দিনের ব্যবধানে দুটি হত্যাকাণ্ডের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অপরাধী, কিশোর গ্যাং ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধের আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী।

সম্প্রতি কেরানীহাট সিটি সেন্টার এলাকায় ছুরিকাঘাতে হামিম (১৮) নামের এক যুবক নিহত হন।

সিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলায় একটি চায়ের দোকানে বিরোধ মীমাংসার বৈঠকে হামিম ও রোহান উদ্দিনের (১৯) মধ্যে মারামারি শুরু হয়।

একপর্যায়ে রোহান পেছন থেকে ছুরি দিয়ে হামিমের পেটে আঘাত করেন। স্থানীয়রা ধাওয়া করে রোহানকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

আহত হামিমকে প্রথমে স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতাল এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে গত ৩০ আগস্ট রাতে পুরানগড় ইউনিয়নের দক্ষিণ পুরানগড় এলাকায় জাহেদুল ইসলাম প্রকাশ পিচ্চি জাহেদকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এ সময় তাঁর বন্ধু ওয়াহিদও আহত হন।

হত্যার চার দিন পর নিহতের মা বাদী হয়ে বিএনপি নেতা জসিম উদ্দিন প্রকাশ মিষ্টি জসিমকে প্রধান আসামি করে ১৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, নিহত জাহেদুলের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা ছিল।

এদিকে গত বুধবার রাতে সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম বাবরের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে।

চোর নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন নিয়ে গেলেও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রেখে যায়। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয় সাংবাদিক রমজান আলী জানান, কেরানীহাটে সন্ধ্যার পর কিশোর গ্যাংয়ের দাপট বেড়ে যায়, যা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক দলের ছত্রচ্ছায়ায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং মাদকের কারবার বৃদ্ধি পেয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।

তাঁর নেতৃত্বে গত কয়েক সপ্তাহে উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ করা হয়েছে।

সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর না করে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সামাজিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার তাগিদ দেন তিনি।