আনোয়ারা হাসপাতালে ডিজেল এলো, কর্তৃপক্ষ নিল না


তীব্র গরম। বিদ্যুৎ নেই। হাসপাতালের ওয়ার্ডে শুয়ে থাকা রোগীরা ঘামছেন। পাশে স্বজনরা হাতপাখা নাড়ছেন। জেনারেটর দুটি আছে, কিন্তু চলছে না- তেল নেই।

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কয়েক দিন ধরে এই ছিল নিত্যদিনের চিত্র। লোডশেডিং হলেই হাসপাতাল ডুবে যেত অন্ধকারে। ফ্যান বন্ধ, আলো বন্ধ। বিনা চিকিৎসায় কষ্ট পেতে থাকতেন রোগীরা।

এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। আর তারপরই ঘটে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনা।

হঠাৎ এলো ডিজেলের ভ্যান

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে হাসপাতালের সামনে এসে থামে একটি ভ্যানগাড়ি। নামানো হয় ২০০ লিটার ডিজেল। কিন্তু প্রশ্ন উঠল- এই তেল এলো কোথা থেকে? কে পাঠাল?

উত্তর মেলার আগেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিল, তারা এই তেল গ্রহণ করবে না।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. মাহতাব উদ্দীন চৌধুরী স্পষ্ট ভাষায় বললেন, সরকারি হাসপাতালে বাইরের কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কেউ জ্বালানি সরবরাহ করতে পারেন না। নির্ধারিত সরকারি প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো তেল গ্রহণ করা হয়নি এবং হবেও না।

ভাইরাল অডিওতে নতুন মোড়

ডিজেল প্রত্যাখ্যানের পর ঘটনা আরেকটি মোড় নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি অডিও ক্লিপ। সেই অডিওতে দাবি করা হয়, কথা বলছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের একান্ত সচিব রিদুয়ানুল করিম চৌধুরী সায়েম।

অডিওতে বলা হয়, ওই ডিজেল তাঁদের পক্ষ থেকে পাঠানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ করা হবে।

তবে অডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সায়েমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

যে প্রশ্নের উত্তর নেই

ডিজেলের ভ্যান এলো, ফিরে গেল। অডিও ভাইরাল হলো, বিতর্ক জমল। কিন্তু আসল প্রশ্নগুলো থেকে গেল অনুত্তরিত।

সরকারি বরাদ্দ থাকলে একটি হাসপাতালে দিনের পর দিন জ্বালানি সংকট হয় কীভাবে? জেনারেটর থাকতেও কেন রোগীদের অন্ধকারে কষ্ট পেতে হয়? এই সংকটের দায় কার- হাসপাতাল প্রশাসনের, না স্বাস্থ্য বিভাগের?

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু কবে সমাধান হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

ততদিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ গেলে হাসপাতালের রোগীদের ভরসা থাকবে শুধু হাতপাখায়।


এ বিষয়ে সায়েমের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।