চট্টগ্রামের আটতলা ভবনে ৬৩ বিদেশি আটক, জব্দ ৭০ ডিভাইস


রাত তখন গভীর। চট্টগ্রাম নগরের খুলশী-জালালাবাদ এলাকার একটি আটতলা ভবনে তখনও আলো জ্বলছে। ভেতরে ব্যস্ত মানুষজন- ল্যাপটপ খোলা, মোবাইল ফোন হাতে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে, কোনো অফিসে রাত জেগে কাজ চলছে।

কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে ওই ভবনে যখন কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও পুলিশের যৌথ দল হানা দিল, বেরিয়ে এল অন্য চিত্র। ভেতরে পাওয়া গেল চার দেশের ৬৩ জন বিদেশি নাগরিক। জব্দ হলো ৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস।

যেভাবে অভিযান

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও পুলিশের যৌথ দল খুলশী-জালালাবাদ এলাকার ওই আটতলা ভবনে অভিযান চালায়। অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মোহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ।

তিনি জানান, ভবনটিতে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিকের অবস্থান ও সন্দেহজনক কার্যক্রমের তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে আটক ৬৩ জনের মধ্যে চীন, পাকিস্তান, লাওস ও ভিয়েতনামের নাগরিক রয়েছেন।

তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসহ মোট ৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে।

কী হচ্ছিল ওই ভবনে

আটক ব্যক্তিরা বাংলাদেশে কেন এসেছিলেন, ওই ভবনে কেন অবস্থান করছিলেন এবং সেখানে ঠিক কী ধরনের কার্যক্রম চলছিল- এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

পুলিশ কর্মকর্তা ফয়সাল আহম্মেদ জানান, আটকদের বৈধ কাগজপত্র, ভিসার ধরন এবং তারা কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির সঙ্গে যুক্ত- সব কিছু যাচাই করা হচ্ছে।

তবে অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে ভিন্ন কথা। সূত্রের দাবি, ওই ভবনে বিদেশি নাগরিকদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেখানে ক্যাসিনোসদৃশ বা জুয়াসংক্রান্ত কার্যক্রম এবং বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন চলছিল বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে আগে থেকেই তথ্য ছিল।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

কোটি টাকার লেনদেনের সন্দেহ

জব্দ করা ৭০টি ডিভাইস এখন তদন্তকারীদের হাতে। এই ডিভাইসগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পুলিশের ধারণা, ডিভাইসগুলোতে আর্থিক লেনদেন, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং অনলাইন কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

অভিযানসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ওই কথিত জুয়ার আসরে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়ে থাকতে পারে। নগদ অর্থের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব বা অনলাইনে অর্থ স্থানান্তর হয়েছে কি না, তা-ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

তবে এখন পর্যন্ত লেনদেনের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিমাণ বা হিসাব প্রকাশ করেনি পুলিশ।

যে প্রশ্নগুলো থাকছে

চার দেশের ৬৩ জন বিদেশি নাগরিক চট্টগ্রামের একটি ভবনে কীভাবে একত্রিত হলেন? তারা কতদিন ধরে সেখানে ছিলেন? ভিসা কোন ধরনের ছিল- পর্যটক, ব্যবসায়িক, না অন্য কিছু? স্থানীয়ভাবে তাদের কেউ সহায়তা করেছে কি না?

এসব প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। তদন্তের অগ্রগতিতে ধীরে ধীরে উন্মোচিত হবে আটতলা সেই ভবনের আসল রহস্য।

আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন ও মামলার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আজ বিকেলে আপডেট জানানো হবে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।