ডেঙ্গু রোধে কোদাল হাতে খাল পরিষ্কারে নামলেন হুমাম কাদের


নোংরা খাল ও পরিবেশ রেখে পর্যটক আকৃষ্ট করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী।

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পর্যটন বিকাশে পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাঙ্গুনিয়ার কুলকুরমাই খাল পরিষ্কার কর্মসূচিতে কোদাল হাতে অংশ নেন তিনি।

স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিনের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ থেকে ছয়টি জেলার সাড়ে ৬০০-এর বেশি স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন।

কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে হুমাম কাদের চৌধুরী জানান, দেশে ডেঙ্গুর সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ময়লা-আবর্জনায় ভরা জলাশয় ডেঙ্গুর লার্ভা জন্মানোর অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে হলে খালগুলো পরিষ্কার রাখতে হবে।

রাঙ্গুনিয়াকে পর্যটনবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই উল্লেখ করে তিনি জানান, কোনো পর্যটক নোংরা পরিবেশের এলাকায় আসতে চাইবেন না। তাই খাল ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

বিডি ক্লিনের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশংসা করে হুমাম কাদের জানান, তারা কোনো স্বীকৃতি বা অর্থের প্রত্যাশা না করে নিজেদের ইচ্ছায় মানুষকে সচেতন করছেন। এই কাজে তাদের প্রতি মন থেকে ভালোবাসা ও সালাম জানান তিনি।

এই সংসদ সদস্য জানান, স্থানীয়দের সচেতনতা বাড়াতে নির্বাচনের সময় প্রতিটি ইউনিয়ন ও বাজারে বিনামূল্যে ডাস্টবিন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেকেই ডাস্টবিনের আশপাশে ময়লা ফেলেছেন।

বাইরের মানুষদের এলাকা পরিষ্কার করতে দেখলে স্থানীয়দের মনে সচেতনতা তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাঙ্গুনিয়ার উন্নয়ন প্রসঙ্গে হুমাম কাদের চৌধুরী জানান, সরকারি উদ্যোগে দুটি খালের খননকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বান্দরবান ও কাপ্তাই অঞ্চলের সঙ্গে রাঙ্গুনিয়ার যোগাযোগ থাকায় এই উপজেলায় পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

নিজের দায়িত্বকালের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ৩১ দফার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

সরকারের মাত্র ছয় মাসের কার্যক্রম দিয়ে সাফল্য-ব্যর্থতা বিচার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ছয় মাস অনেক কম সময়। কাজের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নিজেদের প্রমাণ করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে বিডি ক্লিনের এক প্রতিনিধি জানান, সংগঠনটি ২০১৬ সাল থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে দেশের ৫৭টি জেলা ও ১৬৫টি উপজেলায় তাদের টিম রয়েছে।

তিনি আরও জানান, হুমাম কাদের চৌধুরীর সহধর্মিণীর সঙ্গে যোগাযোগের পর রাঙ্গুনিয়ায় এই কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়। দিনব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা কাজের মাধ্যমে খালের পানির প্রবাহমান স্রোত দৃশ্যমান হবে বলে আশা প্রকাশ করেন ওই প্রতিনিধি।