বড় প্রতিষ্ঠানের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি সহজ করতে বিএসইসির উদ্যোগ


বড় ও মানসম্পন্ন কোম্পানিগুলোকে সহজে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত করে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ তৈরি করতে কাজ করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রামের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের কনফারেন্স হলে আয়োজিত এক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান এই তথ্য জানান।

‘ক্যাপিটাল মার্কেট: গ্রোথ ডায়ালগ-পাথওয়ে টু লিস্টিং’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে চট্টগ্রাম চেম্বার এবং আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড।

মাসুদ খান জানান, তালিকাভুক্তিতে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে ব্যবসায়ীরা মানি মার্কেট থেকে টাকা সংগ্রহ করেন, ফলে পুঁজিবাজারে কাঙ্ক্ষিত গতিশীলতা আসে না। নতুন নিয়মে ৫০০ কোটি টাকা টার্নওভার থাকা কোম্পানিগুলো সরাসরি তালিকাভুক্তির আবেদন করতে পারবে।

আইপিও তালিকাভুক্তির জন্য একবার অডিট করলেই চলবে এবং ফিক্সড প্রাইসের বদলে ইনডিকেটিভ মূল্য থাকবে। এছাড়া এনবিআরের ক্লিয়ারেন্স সাপেক্ষে লভ্যাংশ প্রদানের সুযোগ রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।

সংলাপে চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক জানান, তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান লাভ করলে লভ্যাংশ দেবে, লোকসান হলে দেবে না—এমন নীতিতে বাজারকে নিজস্ব নিয়মে চলতে দেওয়া উচিত। রেগুলেটরি আইন প্রণয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর এবং সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের একমত হওয়ার ওপর তিনি জোর দেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মোমিনুল ইসলাম জানান, দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে শক্তিশালী রেগুলেটরি কমিশন গঠনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারকে গতিশীল করতে হবে।

অপর বিশেষ অতিথি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এ কে এম হাবিবুর রহমান করপোরেট গভর্ন্যান্স ও ইন্টারনাল অডিট সিস্টেম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

আইডিএলসি ফাইন্যান্সের চেয়ারম্যান কাজী মাহামুদ সাত্তার পুঁজিবাজারের ডিরেগুলেশন এবং কর সংক্রান্ত বিষয়ে এনবিআরকে সাথে নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। ধন্যবাদ সূচক বক্তব্যে চট্টগ্রাম চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী চট্টগ্রাম অঞ্চলের বৃহৎ কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করতে বিএসইসির সাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী, প্রাক্তন সিনিয়র সহ-সভাপতি এম এ ছালাম, আইডিএলসি ফাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জামাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুর রহমান মজুমদার, বিএসআরএমের চেয়ারম্যান আলীহুসেইন আকবর আলী এবং চট্টগ্রাম কাস্টমস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. শওকত আলী।

এছাড়া সংলাপে লুব-রেফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউসুফ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের ডিন ড. সালেহ জহুর, বারভিডার মহাসচিব রিয়াজ রহমান, মোদাচ্ছের এ সিদ্দিক অ্যান্ড কোং-এর মোদাচ্ছের আহমেদ সিদ্দিকী, পিডব্লিউসির অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর (ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন) শাদাব মাহমুদ, বিএসএম গ্রুপের আবুল বাশার চৌধুরী এবং আইআইএবির সভাপতি এম নুরুল আলম বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক মোহাম্মদ আকতার পারভেজ, ইঞ্জিনিয়ার মো. গোলাম সরওয়ার, এ. এস. এম. ইসমাইল খান, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, শহীদুল আলম ও মো. সেলিম নুরসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।