আখেরি মোনাজাতের অপেক্ষায় লাখো মানুষ, জনসমুদ্রে চুনতি


রাত গভীর হচ্ছে। কিন্তু চুনতিতে ঘুমের কোনো বালাই নেই।

লোহাগাড়ার এই ছোট্ট জনপদে এখন শুধু মানুষ আর মানুষ। কেউ এসেছেন চট্টগ্রাম শহর থেকে, কেউ ঢাকা থেকে, কেউ বা দেশের আরও দূর প্রান্ত থেকে। অনেকে আগের দিনই অবস্থান নিয়েছেন সীরত ময়দানে- শুধু একটি মুহূর্তের জন্য। আখেরি মোনাজাতে শরিক হওয়ার জন্য।

১৩ একরের সীরত ময়দান কখন যে জনসমুদ্রে পরিণত হয়ে গেছে, বলা মুশকিল। মূল প্যান্ডেল ছাপিয়ে মুসল্লিদের অবস্থান ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের সড়কে, মাঠে, গ্রামের গলিতে। যতদূর চোখ যায়, শুধু মাথা আর মাথা।

৫৬ বছরের ঐতিহ্য, ১৯ দিনের আয়োজন

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতিতে প্রতি বছর ১১ রবিউল আউয়াল শুরু হয় আন্তর্জাতিক সীরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল। টানা ১৯ দিন চলে এই আয়োজন। শেষ হয় ২৯ রবিউল আউয়াল আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে।

এবার ৫৬তম আসরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কয়েকশ খ্যাতনামা আলেম-ওলামা ও ইসলামী চিন্তাবিদ সীরাতুন্নবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ, মানবতা, ন্যায়-ইনসাফ ও শান্তির বার্তা তুলে ধরেছেন। নির্ধারিত বিষয়ে একের পর এক আলোচনায় মুখর থেকেছে সীরত ময়দান।

আয়োজকরা জানান, ফজরের আগে খুতবায়ে ছদর, মিলাদ ও আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের মাহফিল।

বিকেল থেকেই জনস্রোত

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমাপনী দিনে বিকেল থেকেই মাহফিলস্থলে মানুষের আনাগোনা বাড়তে থাকে। সন্ধ্যার পর তা রীতিমতো জনস্রোতে রূপ নেয়।

রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মূল প্যান্ডেলে জায়গা না পেয়ে অনেক মুসল্লি আশপাশের সড়ক, মাঠ ও খোলা জায়গায় অবস্থান নেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেকেই রাতভর অপেক্ষা করছেন- শুধু মোনাজাতের সেই পবিত্র মুহূর্তটির জন্য।

সমাপনী দিনে ফজরের নামাজের আগ পর্যন্ত চলছে ধর্মীয় আলোচনার শেষ পর্ব।

লাখো কণ্ঠের একটাই প্রার্থনা

দীর্ঘ ১৯ দিনের আয়োজনের শেষ প্রহরে চুনতির সীরত ময়দানে এখন কেবল অপেক্ষা। আখেরি মোনাজাতের অপেক্ষা।

লাখো মানুষের সম্মিলিত প্রার্থনায় মুখর হবে চুনতির আকাশ-বাতাস, এই প্রত্যাশায় মোনাজাতের ক্ষণ গুনছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। বছরের পর বছর ধরে এই একটি মুহূর্তের জন্যই লাখো মানুষ ছুটে আসেন চুনতিতে। সেই টান কমেনি, বরং বেড়েছে।

৫৬ বছর পরেও চুনতির সীরত মাহফিল তাই শুধু একটি ধর্মীয় আয়োজন নয়- এটি একটি মিলনমেলা, একটি আবেগ, একটি ঐতিহ্য।