
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বাসের ধাক্কায় গুরুতর আহত স্কুলছাত্রী ঈষা দাশ (১০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। এ দুর্ঘটনার জেরে শিক্ষার্থীরা বাস ভাঙচুর করে এবং চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ওই ছাত্রীর মৃত্যু হয়। দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে রোববার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের মিঠাদীঘি এলাকায় কেফায়েত উল্লাহ চৌধুরী কবির আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে বাসের ধাক্কায় আহত হয় ঈষা।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাস্তা পার হওয়ার সময় স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে কেরানীহাটের আশশেফা হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাসটি আটক করে ভাঙচুর করে। একপর্যায়ে বাসের আসন খুলে মহাসড়কে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বাসের চালক ও হেলপারকে মারধর করে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রাখারও অভিযোগ ওঠে।
শিক্ষার্থীদের অবরোধের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধ থাকায় মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের সামনে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ, মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করে ডিভাইডার স্থাপন এবং বিদ্যালয়গুলোর সামনে ফুটওভারব্রিজ নির্মাণের দাবি জানায়।
খবর পেয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী, সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এবং দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি সালাউদ্দিন চৌধুরী ঘটনাস্থলে যান।
পুলিশ ও স্থানীয় সাংসদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো মেনে নিয়ে রাতেই নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলে তারা অবরোধ তুলে নেয়।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি সালাউদ্দিন চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে আহত বাসচালককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছে।
