মালদ্বীপে পার্লামেন্টের কার্যক্রম বন্ধ করেছে সেনাবাহিনী, ২ নেতা গ্রেফতার

মালে : সুপ্রিম কোর্টে খালাস পাওয়ার পর স্বেচ্ছা নির্বাসন ছেড়ে দেশে ফেরা মালদ্বীপের বিরোধী দলের দুই নেতাকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশের বরাত দিয়ে রোববার কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা এ খবর জানায়। গ্রেফতার আব্দুল্লাহ সিনান ও ইলহাম আহমেদকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

সন্ত্রাসবাদের মামলায় কারাদণ্ড পাওয়া বিরোধী দলের কয়েকজন নেতাকে সুপ্রিম কোর্টের খালাস দেওয়ার নির্দেশ নিয়ে বিরোধের জেরে মালদ্বীপের রাজনীতিতে নুতন করে সঙ্কটময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

২০১৫ সালে মালদ্বীপের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ নাশিদ এবং বিরোধী দলের আরও ১২ জন নেতাকে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে দোষীসাব্যস্ত করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা নাশিদ ১৩ বছর কারাভোগের সাজা পান।

আন্তর্জাতিক অঙ্গন ওই রায়ের তীব্র সমালোচনা করে এবং যুক্তরাজ্য নাশিদকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেয়।

গত বৃহস্পতিবার মালদ্বীপের সুপ্রিম কোর্ট ওই রায় ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ বর্ণনা করে তা বাতিল করে দিয়ে বিরোধী দলের নেতাদের মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে জানায় বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

প্রেসিডেন্ট আব্দুল্লাহ ইয়ামিন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানান।

কারণ, ওই রায়ের ফলে মালদ্বীপের ৮৫ সদস্যের পার্লামেন্টে বিরোধী দল একক সংখ্যাগোরিষ্ঠতা লাভ করেছে।

কারাদণ্ড হওয়ায় গত বছর বিরোধী দলের ওই ১২ এমপি পার্লামেন্টে তাদের আসন হারিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে দুই জনকে রোববার বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রোববার দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ অনিল সুপ্রিম কোর্টের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ইয়ামিনকে উৎখাতের চেষ্টার অভিযোগ আনেন।

তিনি বলেন, “আমরা এমন কিছু ঘটনা ঘটার ইঙ্গিত পেয়েছি, যা জাতীয় নিরাপত্তাকে সঙ্কটের মুখে ফেলে দেবে। ওই তথ্যানুযায়ী, খুব সম্ভবত সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করার বা অভিশংসনের নির্দেশ দিতে পারেন।

“যা বেআইনী হবে এবং সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ ধরণের ঘটনা ঘটতে দেবে না।”

তারপরই দেশটির সেনাবাহিনী রাজধানী মালের পার্লামেন্ট ভবন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে সেখানকার সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় বলে জানায় আল জাজিরা।