চট্টগ্রাম: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায়ের দিন চট্টগ্রাম নগরের ৬টি স্থানে অবস্থান নেবে বিএনপির নেতাকর্মীরা। ওই স্থানগুলোতে ‘ছদ্মবেশে’ উপস্থিত থাকবে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে রায়ের আগেরদিন বিকেলে নগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে মিছিল করার পাশাপাশি রায়ের দিন ১৩টি স্থানে অবস্থান থাকবে আওয়ামী লীগের। এছাড়া রায় ঘিরে নাশকতা ঠেকাতে নগরের ১৬ থানার ওসিকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ সদস্যদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার মামলার রায় ঘোষণার আগে সকাল ১০টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ নগরীর ছয়টি স্থানে অবস্থানের প্রস্তুতি নিয়েছেন দলটির নেতাকর্মীরা। এ লক্ষ্যে নগরীর ৪৩টি সাংগঠনিক ওয়ার্ডকে ছয়টি ভাগে বিভক্ত করে স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, শ্রমিক দল ও ছাত্রদলের দায়িত্বশীল নেতাদের সমন্বয়ে ছয়টি টিম গঠন করা হয়েছে। ছয়টি স্থান হলো- সিটি গেইট, শাহ আমানত সেতু, বহদ্দারহাট মোড়, ইপিজেড় মোড়, নিমতলা বিশ্বরোড এবং কাজীর দেউড়ি নূর মোহাম্মদ সড়ক। এরমধ্যে সিটি গেইট ও শাহ আমানত সেতু এলাকায় জনসমাগম বেশী হওয়ার আশা করছেন বিএনপি নেতারা।
নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরীর ছয়টি স্থানে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আমাদের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেবেন। আমাদের অবস্থান হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। আশা করছি, আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থানে বাধা দিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি অশান্ত করবে না।
বিএনপির নেতাকর্মীরা বলেছেন, শনিবার রাত থেকে পুলিশ নগর বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতাদের বাসায় বাসায় গিয়ে হানা দিচ্ছে। এ কারণে তারা গ্রেফতার এড়াতে শনিবার থেকে আত্মগোপনে চলে গেছেন। ৮ ফেব্রুয়ারি সকালে আত্মগোপন থেকে তারা রাস্তায় বেরিয়ে আসবেন।
এ বিষয়ে নগর জামায়াতের প্রচার সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ বলেন, বিএনপি নেতৃবৃন্দের সাথে আমাদের আলাপ-আলোচনা হয়েছে। আমরা তাদের সাথে মাঠে থাকবো। তবে অবস্থানস্থলে আমাদের কোন ব্যানার-প্ল্যাকার্ড ইত্যাদি কিছু থাকবে না।
এদিকে রায়কে কেন্দ্র করে মাঠ দখলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। গত সোমবার সন্ধ্যায় মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, রায়ের আগের দিন বিকেলে নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে মিছিল করবে আওয়ামী লীগ। এ ছাড়া রায়ের দিন একেখান মোড়, ইপিজেড মোড়, কাটগড়, বিমান চত্বর, বাদামতলী, দেওয়ানহাট, ওয়াসা, জিইসি মোড়, বহদ্দারহাট মোড়, অক্সিজেন মোড়, শাহ আমানত সেতু, চকবাজার, দারুল ফজল মার্কেটের দলীয় কার্যালয়সহ মোট ১৩টি স্থানে অবস্থান নেবে আওয়ামী লীগ।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়ার বিচারের রায় নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য আমরা প্রস্তুত। বিচারের রায়ে খালেদা জিয়ার দন্ড যা প্রাপ্য, তাই হবে। এ নিয়ে কোনো অরাজকতা করার অপচেষ্টা হলে তা প্রতিহত করার জন্য আমরা রাজপথে থাকবো।
এদিকে খালেদার রায় ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা করছে চট্টগ্রামের পুলিশ প্রশাসন। গত ৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নাসরিন ওয়াজেদ স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনার পরিপ্রক্ষিতে নগর বিশেষ শাখা অতিরিক্ত ১০০ এপিবিএন সদস্য চেয়েছে কর্তৃপক্ষের কাছে। ওই চিঠিতে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে চট্টগ্রামসহ সারা দেশের পুলিশ সুপারদের পাঁচটি নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
নির্দেশনাগুলো হলো- যেসব স্থনে আগে নাশকতার ঘটনা ঘটেছে, সেসব স্থান চিহ্নিত করা করে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা। থানাসহ পুলিশের সব স্থাপনায় নিরাপত্তা বাড়ানো। পুলিশের সব সিসি টিভি ক্যামেরা সচল রাখা। টহল বা অভিযানে পুলিশ সদস্যরা একা না গিয়ে একসঙ্গে টহল দেয়া। নির্দেশনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে ক্যামেরা রাখা, যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তারা ছবি তুলে রাখতে পারেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, খালেদা জিয়ার সাজা হলে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির মাঠে নেমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে নাশকতা চালাতে পারে মর্মে গোয়েন্দা প্রতিবেদন আছে। তাই পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ সদস্যদেরকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন আইজিপি স্যার। রায়ের আগে ও পরে সার্বিক পরিস্থিতি সতর্ক পর্যবেক্ষণে রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নগর ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের গতিবিধি নজরদারিতে রাখার কথাও বলা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. ইকবাল বাহার বলেন, রায় ঘিরে নাশকতা ঠেকাতে নগরের ১৬ থানার ওসিকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। থানা-ফাঁড়ির নিয়মিত পুলিশ ফোর্স ছাড়াও সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি তেলস্থাপনার নিরাপত্তার জন্য সিমেন্ট ক্রসিং থেকে বিমানবন্দর সড়ক দুদিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওই সড়কে কোন সাধারণ যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করতে পারবে না। এই সময়ে কাটগড় দিয়ে বিমানবন্দরের যাত্রীরা যাওয়া-আসা কতে পারবেন।
